ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ 12টি নৃশংস সাস্তি, যা আপনাকে স্তব্ধ করবে

0

 

ভয়াবহ  সাস্তি

আপনি হয়তো জেনে থাকবেন মধ্যযুগে মানুষ খুবই ভয়াবহ সাস্তি দেওয়া হত।যা ছিল মৃত্যুর চেয়েও হাজার গুন কষ্টকর।আপনি জানলে অবাক হবেন যে, সুধু আসামী নয়, বরং অনেকে সখের বসে এবং জেদ বসতও এমন ভয়াবহ সাস্তি দিত।যুগটি ছিল খুবই নিকৃষ্ট।সেই যুগে কোনো নিয়ম নিতি কেউ মানতো না।নারীপরুষ অবাদে যেখানে সেখানে জিনায় লিপ্ত হত।এমনকি পাবলিক প্লেস বা বাজারের মাঝ খানেও জিনা বা ধর্ষনের দৃশ্যের দেখা মিলতো।ক্ষমতাশালীরা যেভাবে ইচ্ছা সেভাবেই চলতো, কেউ তাদের বাধা দিত না।এমনি এক নিকৃষ্ট যুগে কিছু সাস্তির সূচনা হয়, যার কথা ভাবতেই মানুষ কেপে উঠতো।সেই ভয়ংকর  নৃশংস শাস্তির 13টি পদ্ধতিতে সম্পর্কে জেনে নেন।


1.  ক্রুশবিদ্ধকরণ




লোকেদেরকে কাঠের ক্রুশে হাতে পেরেক দিয়ে আটকে সরীরটা খুটির সাথে বাধা হত।এবং যতক্ষনপর্যন্ত না মৃত্যু হয়, ততক্ষন পর্যন্ত সেভাবেই  রাখা হত।কিছু লোকদের কাদে ভারী কাঠের  ক্রুশ পেরেক দিয়ে আটকিয়ে  কোন মরুভূমি বা বড় খোলা জায়গায় ছেড়ে দেওয়া হত,আর সেখানেই সে মারা যেত। অনেককে আবার ক্রুশবিদ্ধ করে আগুনে পুরিয়ে ফেলা হত।

 


2. মানুষ মারতে ইঁদুর ব্যবহার করা




ইঁদুর ব্যবহার করে মানুষকে নির্যাতন করা বা হত্যা করা এখনও মানুষের মধ্যে একটি প্রিয় পদ্ধতি হিসাবে রয়ে গেছে। তবে প্রাথমিক সময়ে এটি আরও বেশি ছিল। ইঁদুরের ফাঁদ বলে একটা জিনিস ছিল যেখানে একটা ইঁদুরকে খাঁচার ভিতরে রাখা হত। তলাবিহীন খাঁচাটি একজন আসামির শরীরে স্থাপন করা হবে এবং খাঁচার অন্য দিকটি উত্তপ্ত করা হবে।অসহায় ইঁদুর , অন্য দিকে তাপের কারনে  নিজের  পথ তৈরি করার জন্য ধীরে ধীরে মানুষটির মাংস খেতে থাকবে।এভাবে আসামির মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত চলতে থাকবে।সত্যিই খুবি ভয়ানক সাস্তি এটা।


3. নির্লজ্জ ষাঁড়




প্রাচীন গ্রীকদের দ্বারা ডিজাইন করা, এই পদ্ধতিটিকে সিসিলিয়ান ষাঁড়ও বলা হত, কারণ এটি সিসিলিতে উদ্ভাবিত হয়েছিল। এটি একটি প্রকৃত ষাঁড়ের মত আকার দিয়ে  ব্রোঞ্জ(ব্রোঞ্জ হল, তামা ও টিনের মিশ্রনে তৈরি ধাতু) দিয়ে  তৈরি একটি যন্ত্র ছিল। খারাপ ব্যক্তিকে ভিতরে আটকে রেখে যন্ত্রটির নীচে আগুন দেওয়া হতো,এরফলে ব্রোঞ্জ গরম হয়ে লোকটি যন্ত্রনা ভূগকরতো।যতক্ষণ না ভিতরে থাকা ব্যক্তিটি মারা যেত ততক্ষন পর্যন্ত তাপ দেওয়া হত। এই যন্ত্রটিতে এমন ব্যবস্থাও ছিল যা লোকটির চিৎকারকে ষাঁড়ের আওয়াজে রূপান্তরিত করে।

4. ফ্লেয়িং




ফ্লেয়িং মানে চামড়া তোলা। জীবিত মানুষের চামড়া তোলে প্রাথমিক যুগে শাস্তি বা নির্যাতন করা হতো।অপরাদের উপর নির্ভর করে তাদের চামড়া তুলা হতো। এতে অনেকে মারা যায় , মানসিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত বা পঙ্গু হয়ে জীবনযাপন করে। নির্যাতনের এই পদ্ধতিটি মেসোপটেমিয়ায় বেশ বিখ্যাত ছিল।


5. ব্রেকিং হুইল




মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আরেকটি শাস্ত্রীয় পদ্ধতি ছিল ব্রেকিং হুইল ব্যবহার করা। এই ডিভাইসটিতে একটি চাকা থাকে, যার সাথে দোষী ব্যাক্তিকে  বেঁধে রাখা হয়। দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিকে চাপ দিয়ে পেটানো হত এবং চাকা ঘুরানো হতো।যারফলে  তার শরীরের হাড়গুলি ধীরে ধীরে ভেঙ্গে যেত,অবসেষে মৃত্যু হত।

6. কান কাটা




 একসময় মানুষের কান কাটার মাধ্যমে শাস্তি কার্যকর করা হতো।তবে অপরাধ খুব গুরুতর না হলে, তাদের কানে পেরেক দিয়ে ছিদ্র করা হতো। তবে বেশীরভাগ ক্ষেত্রে, এই শাস্তি দোষীদের  হত্যা করেনি।তবে দুঃখের বিষয় ক্ষতটিতে পরবর্তীতে সংক্রমণের কারণে তাদের বেশির ভাগের মৃত্যু হয়েছে। 


7. একটি হাতির নিচে পিষ্ট




একটি হাতির নিচে দোষী ব্যক্তির মাথা পিষে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া প্রাচীন ভারতে এবং দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য অঞ্চলে একটি খুব জনপ্রিয় পদ্ধতি ছিল। হাতিকে এমন ভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো যে, এরা আসামীকে ধীরে ধীরে নির্যাতন করে মেরে ফেলতো। 


8. বন্য পশু দ্বারা ধর্ষিত হয়ে মৃত্যু




প্রাচীন রোমান সাম্রাজ্যে, লোকেরা একটি  অনুষ্ঠান পছন্দ করত। যে অনুষ্ঠানে দেখানো হত একজন মানুষকে প্রশিক্ষন প্রাপ্ত বন্য প্রাণী দ্বারা ধর্ষন করা হত।এবং যতক্ষন পর্যন্ত না লোকটি মারা যায় বা আত্বহত্যা করে ততক্ষন পর্যন্ত ধর্ষন করা হয়।বিষয়টা অনুষ্টান হলেও ,এটা কিন্তু কোন যাদু ছিলনা।এটা বাস্তবে করা হত।এর জন্য বেশির ভাগ ক্ষেত্রে মহিলাদেরকে  দুর থেকে জোর করে বন্দি করে নিয়ে আসা হতো।অনেক সময় পুরুষদেরকেও এদের সিকার হতে হতো।এমন ভয়াবহ সাস্তির মাধ্যমে কারো মৃত্যুর অনুষ্ঠান কিভাবে মানুষদের প্রিয় ছিল।আামাদের কপাল ভালো যে,এরকম ভয়াবহ অনুষ্ঠান দেখতে হয়নি।


9. অর্ধেক করাত




 রোমান সাম্রাজ্য, স্পেন এবং এশিয়ার কিছু অংশের মতো বিশ্বের বিভিন্ন অংশে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করার এই পদ্ধতিটি ব্যবহৃত হয়েছিল।একজন মানুষকে প্রায়ই অর্ধেক কেটে  মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হত।এই সাস্তি দেওয়ার জন্য, আসামীকে উল্টো করে জুলিয়ে দুই পায়ের মাঝ বরাবর পায়ু ছিদ্র সোজা করাত দিয়ে প্রায় বুক পর্যন্ত ফারা হত।

একই ধরনের আরেকটি শাস্তি ছিল "অন্তঃসত্ত্বা" ,যেখানে জীবিত ব্যক্তির সরীরের ভিতরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বের করে নেওয়া হতো, এবং ধীরে ধীরে তাকে মৃত্যুর দিকে নিয়ে যাওয়া হতো।


10. ফুটন্ত দ্বারা মৃত্যু




প্রাচীন যুগের লোকেরা আসামীদের নিয়ে খেলতে পছন্দ করত।তারা দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিকে তেল বা জলে সিদ্ধ করতো, যতক্ষণ না ব্যক্তিটি মারা যায়। 


11. তাক দ্বারা শাস্তি




এটি একটি কাঠের আয়তক্ষেত্রাকার ফ্রেমের তৈরি ,যা  নির্যাতনের যন্ত্র হিসেবে খুব জনপ্রিয়  ছিল। সাজাপ্রাপ্তদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ চার পাশে শিকল দিয়ে বেঁধে দেওয়া হতো এবং পুলি ও রোলারের সাহায্যে প্রসারিত করা হত।যতক্ষন পর্যন্ত না তাদের শরীরের অংশ গুলো  ছিঁড়ে আলাদা হয়। 


12. ইমপ্লিমেন্ট




খুবিই ভয়াবহ ও নিকৃষ্ট একটি সাস্তি হল  ইমপ্লিমেন্ট।এটি খুটি ,বর্শা, হুক বা দণ্ড দ্বারা পরিচালনা করা হয়।  এটি মধ্যযুগে খুবি জনপ্রিয় ছিল। বিশেষ করে রাষ্ট্রদ্রোহ বা 'রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অপরাধের' জন্য দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের এভাবে শাস্তি দেওয়া হতো। জঘন্য পদ্ধতিতে সাস্তি দিতে আসামীর সরীরের বিভিন্ন ছিদ্র পথে খুটি ,বর্শা, হুক বা দণ্ড প্রবেশ করানো হত।বিশেষ করে তাদের পায়ু ছিদ্র দিয়ে অধিক চাপে মোটা কোন দন্ড প্রবেশ করিয়ে মুখ গহব্বর দিয়ে বের করা হত।এছাড়া বিভিন্ন ছিদ্র নাক,কান,মুখ, বা প্রসাবের ছিদ্র দিয়ে সেই অস্ত্র প্রবেশ করানো হত।এভাবে কঠোর আজাবের ফলে কিছুক্ষনের মধ্যেই আসামী মারা যেত। 


তো অদ্ভূত কিছু সাস্তি সম্পর্কে জানলেন।এখন আপনার অনুভূতি কেমন?যদি বর্তমান যুগে এমন সাজার ব্যবস্থা থাকতো তাহলে কেমন হত?কোন অন্যায় থাকতো কি?মনে হয় না!আপনার মত কি?কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না।

Post a Comment

0Comments
Post a Comment (0)