আপনি কি জানেন যে, সোনা মহাকাশ থেকে পৃথিবীতে এসেছিল এবং গাছেও সোনা জন্মায়? যদি না জানেন তাহলে দেখে নিন চকচকে এই মূল্যবান ধাতু সম্পর্কে কিছু আজব সত্য মজার তথ্য।এ তথ্য গুলো সত্য হলেও অবিশ্বাস্য ।
![]() |
| সোনা সম্পর্কে আজব 12টি তথ্য। |
যুগ যুগ ধরে আমরা বিভিন্ন ভাবে সর্ন বা সোনা ব্যবহার করে আসছি। প্রাচীন কাল থেকেই সোনার জন্য কত যুদ্ধ কত ইতিহাস রয়েছে।
এটি চকচকে ধাতু বলে প্রাচীনকাল থেকে মুদ্রা, গহনা এবং শিল্পকলার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। এমনকি এটি একসময় আর্থিক ব্যবস্থার ভিত্তি ছিল।যা মুদ্রা হিসেবে ব্যবহৃত হত।কিন্তু এই সোনা প্রথম কোথায় পাওয়া গেল? বা কোথা থেকে আসলো?সোনা সম্পর্কে হাজারো তথ্য আমাদের অজানা।এই অজানা তথ্যের মধ্যে সবচেয়ে অদ্ভূত সত্য 13টি আশ্চর্যজনক তথ্য আজকে জানতে পারবেন।এ তথ্য গুলো সম্ভবত আপনি আগে সুনেননি।তাই মনোযোগ দিয়ে পরতে থাকুন আজকের পোস্ট।
1. স্বর্ণ মহাকাশ থেকে আসে
এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত প্রায় সব সোনা পৃথিবীতে ছিল না।বিভিন্ন উল্কাপিন্ড থেকে এই মূল্যবান ধাতু পৃথিবীতে এসেছে। ধারনা করা হয়,পৃথিবী গঠিত হওয়ার 200 মিলিয়ন বছর পরে পৃথিবীতে উল্কাপিন্ড আঘাত করেছিল।আর সেখান থেকেই সোনা পাওয়া যাচ্ছে।হয়তো মহাকাশে এরকম হাজারো সোনার উল্কা গুড়ে বেরাচ্ছে।যে উল্কা গুলো পৃথিবীর চেয়েও কোটি গুন বড় হতে পারে।তো বুঝতেই পারছেন কত সোনা।কেউ লোভ করবেন না আবার।
2. এখন পর্যন্ত উদ্ধার করা সমস্ত সোনা একটি 68-ফুট ঘনক্ষেত্রে রাখা যাবে
এটিকে অন্যভাবে বলতে গেলে, একটি 6-তলা ভবনের উচ্চতার সমান কোন বাক্সেই রাখা যাবে সমস্ত সোনা।তো বুজতেই পারছেন পৃথিবীতে কত সোনা এখন পর্যন্ত উদ্ধার করা হয়েছে।
3. গাছে সোনা জন্মায়
আমরা কথার কথা বলে থাকি,
টাকা গাছে ধরে না, কিন্তু অবিস্যাস হল টাকা গাছে না ধরলেও সোনা কিন্তু ধরে!কি? বিশ্বাস হচ্ছে না?
অস্ট্রেলিয়ান বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন যে ইউক্যালিপটাস নামক গাছের পাতায় সোনা রয়েছে।
ইউক্যালিপটাস গাছের শিকড় মাটির অনেক গভির পর্যন্ত চলে যায় পানির সন্ধানে।যা প্রায় 130 ফুট পর্যন্ত গভীরতায় পৌঁছাতে পারে। যেহেতু সোনার আমানত পানি এবং ভূগর্ভের গভিরে রয়েছে।এজন্য ইউক্যালিপটাস গাছ শিকরের মাধ্যমে মাইক্রোস্কোপিক প্রক্রিয়ায় সোনার কণা শোষণ করে। যা পরে সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে পাতায় স্থানান্তরিত হয়।এভাবে পাতায় সোনা পাওয়া যায়।
4. মধ্যযুগীয় ইউরোপীয়রা মনে করত গলিত সোনার পান্না পান করলে "বুবোনিক প্লেগ"(একপ্রকার গ্রন্থির রোগ) নিরাময় হবে।
ইউরোপের প্রায় 25 মিলিয়ন লোকের মৃত্যু হয় বুবোনিক প্লেগ রোগে।এর কোন ঔষধ না থাকায়, সোনার এই পান্না পানের মাধ্যমে রোগ নিরাময় করা ছিল একটি অদ্ভুত নিয়ম।
5. বিশ্বের বৃহত্তম সোনার বারটির ওজন 250 কেজি বা 6.25 মন।
এটি 2005 সালে "মিতসুবিশি ম্যাটেরিয়ালস কর্পোরেশন" দ্বারা তৈরি করা হয়েছিল। সোনার বর্তমান মূল্যের উপর ভিত্তি করে, এই সোনার বারটির মূল্য $14 মিলিয়ন বা $14,000,000 ডলারেরও বেশি।(USD $1=BDT ৳105)
মজার বিষয় হল, বারটি সাধারণ জুতার বাক্সে সহজেই ফিট করা যেত। এর মাত্রা হল 17.9 ইঞ্চি বাই 8.9 ইঞ্চি বাই 6.7 ইঞ্চি।
আপনি জাপানের টোই গোল্ড মিউজিয়ামে এটি দেখতে এবং স্পর্শ করতে পারেন।
6. সমুদ্রে 20 মিলিয়ন টন বা 500,000,000 মন সোনা রয়েছে
সোনার খোঁজে? আচ্ছা, এখন আপনি জানেন কি সমুদ্রের নিচে কি পরিমান সোনা রয়েছে?অনেক বেশি! যা বিজ্ঞানিদের ধারনার থেকেও অনেক বেশি!তাহলে সেগুলো কেন উদ্ধার করা হচ্ছে না?কিভাবে?আপনার মাথায় কোন আইডিয়া আছে?
সমুদ্র নিষ্কাশন বা সুকানো সম্ভব না।তাহলে কিভাবে? সাগর তো অনেক গভীর, মানে সোনা পানির কয়েক মাইল নিচে চাপা পড়ে আছে। সেখান পর্যন্ত পৌছনো সহজ না।যদি কোন ভাবে পৌছে যান, তখন আপনি দেখবেন যে সোনার উপরে কয়েক আস্তরন পাথরের।এই পাথর কেটে সোনা বের করা সম্ভব?তার জন্য অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ,দক্ষ কারীগর, ও প্রচুর খরচের ব্যাপার।এত কিছু করে যে সোনা উদ্ধার হবে তা কি সত্যিই খরচ তুলতে পারবে?তো বোজতেই পারছেন,এত সোনা কেন সমুদ্রের নিচ থেকে এখনো উদ্ধার করা হচ্ছে না।
7. পৃথিবীর কাছাকাছি একটি গ্রহাণুতে 20 বিলিয়ন টন বা 500,000,000,000 মন সোনা রয়েছে!
আপনি অবাক হতে বাধ্য হবেন যে, সাধারন একটি গ্রহাণুতে 20 বিলিয়ন টন বা 500,000,000,000 মন সোনা রয়েছে!
এই মহাকাশে লক্ষ লক্ষ কোটি কোটি গ্রহ,নক্ষত্র,গ্রহানু,উল্কা ইত্যাদি রয়েছে!এগুলোতে না কত মূল্যবান ধাতু(সোনা,রোপা,হিরা ইত্যাদি) রয়েছে!
সাইকি 16 নামক গ্রহাণুটি স্বর্ণ এবং মূল্যবান ধাতুতে পরিপূর্ণ ।যার মূল্য মনে করা হয় $10,000 কোয়াড্রিলিয়ন ডলার।(USD $1=BDT ৳105)।দামের পরিমানটা এত বেশি যে তা সংখায় প্রকাশ করা কঠিন।তবুও আপনাদের সুবিদার্থে বলে দিচ্ছি: (1 কোয়াড্রিলিয়ন=1,000,000,000,000,000) অতএব $10,000 কোয়াড্রিলিয়ন ডলার= 10,000,000,000,000,000,000 ডলার।(USD $1=BDT ৳105)
আশ্চর্যজনক শোনাচ্ছে, তাই না?
পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা শীঘ্রই এই রহস্যময় গ্রহাণু সম্পর্কে আরও ভালভাবে জানতে চেষ্টা করছেন।
8. টাকা হিসাবে সোনার মুদ্রার প্রথম ব্যবহার লিডিয়াতে, খ্রিস্টপূর্ব 6 শতকে হয়েছিল।
ক্রোয়েসাসের রাজত্বকালে, এই মুদ্রাগুলি ইলেকট্রাম থেকে তৈরি করা হয়েছিল। তখন সেই অঞ্চলের নদীতে সোনা এবং রোপা পাওয়া যেত।
স্বর্ণমুদ্রাগুলির একদিকে একটি সিংহ বা ষাঁড় এবং অন্য দিকে একটি সিল ছিল ।
9. 70 কেজি ওজনের একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের শরীরে প্রায় 0.2 মিলিগ্রাম খাঁটি সোনা থাকে!
মানুষের শরীরে বিভিন্ন জায়গায় সোনার চিহ্ন পাওয়া যায়। এর মধ্যে রয়েছে হার্ট, মস্তিষ্ক, রক্ত এবং আমাদের জয়েন্ট।
10. একটি পাঁচ ক্যারেট হীরার চেয়ে এক আউন্স সোনার নগেট খুঁজে পাওয়া আরও কঠিন
গোল্ড নাগেট হল মাটি এবং স্রোতের পাওয়া সোনার খণ্ড। নাগেটগুলি সাধারণত 70 থেকে 95 শতাংশ সোনার হয়, বাকিটুকু রূপার হয়।
11. বিশ্বে মাথাপিছু সোনার পরিমাণ সবচেয়ে বেশি সুইজারল্যান্ডে
সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের কাছে বিশ্বের সপ্তম বৃহত্তম সোনার মজুদ রয়েছে, যেখানে 1,040 টন বা 26,000 মন সোনা রয়েছে!সুইজারল্যান্ডের লোকজন এই হিসেবে গড়ে প্রায় 128 গ্রাম সোনার মালিক।এছাড়া তাদের নিজস্ব সব গয়না ও অলংকার তো রয়েছেই।
12. বিশ্বের সব সরকারদের কাছে থাকা সমস্ত সোনার প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ লন্ডনে রয়েছে।
লন্ডনের রাস্তার নিচে লুকানো সোনার খনি রয়েছে।
যুক্তরাজ্যের রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে মাটির নিচে 300,000 বর্গফুটেরও বেশি বিস্তৃত একটি হল রয়েছে।যেখানে ইংল্যান্ডের আটটি ব্যাঙ্ক রয়েছে। প্রতিটিতে প্রায় $200 বিলিয়ন বা $200,000,000,000 ডলার মূল্যের সোনার বার রয়েছে!(USD $1=BDT ৳105)
আজ এ পর্যন্তই ।আপনি যদি এরকম আনকমন রহস্যময় অদ্ভুত সত্য খবরা-খবর জানতে চান তাহলে নিয়মিত ভিজিট করুন আমাদের ওয়েবসাইটে jantaparba.com

