বর্তমানে নাসা দ্বারা পরিচালিত আটটি মহাকাশযান রয়েছে, তার মধ্যে তিনটি মঙ্গল গ্রহ প্রদক্ষিণ করছে।এই মহাকাশযানগুলি মঙ্গল গ্রহের পৃষ্ঠের ছবি সংগ্রহ করে।এই মহাকাশযানের পাশাপাশি, তিনটি রোভার ভূমি অতিক্রম করে, নির্ভুলতার সাথে গ্রহের ছোট এলাকা ম্যাপ করে।
রোভার এবং অরবিটারের মধ্যে শত শত মাইল জুরে বিস্তৃত .বায়ুমণ্ডলীয় জলবায়ু প্রক্রিয়া এবং ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য, যেমন আগ্নেয়গিরি এবং গিরিখাত। একারনেই মঙ্গল গ্রহের প্রতি সবচেয়ে বেশি আগ্রহ বিজ্ঞানীদের।
নাসার মার্স ক্লাইমেট মডেলিং সেন্টারের একজন গবেষক বিজ্ঞানী আলেকজান্ডার ক্লিং বলেছেন, "মঙ্গল গ্রহের ভুমি থেকে কয়েক কিলোমিটার উপর পর্যন্ত অংশটুকু গুরুত্বপূর্ন।কারনঃ এখানেই পৃষ্ঠ এবং বায়ুমণ্ডলের মধ্যে সমস্ত বিনিময় ঘটে। এখান থেকে ধুলো বালির সৃষ্টি হয় এবং বায়ুমণ্ডলে মিশে যায়।এখানেই ট্রেস গ্যাস মিশ্রিত হয় এবং পর্বত-উপত্যকার প্রবাহের দ্বারা বৃহৎ আকারের বাতাসের সৃষ্টি হয়।তবে আমাদের কাছে এটি সম্পর্কে খুব বেশি ডেটা নেই।"
ক্লিং অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারদের একটি দলে এই ডেটা শূন্যতা পূরণ করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।দলটি একটি মোটরবিহীন পালতোলা উড়োজাহাজ ডিজাইন করছে। যা মঙ্গল গ্রহের উপরিভাগে একনেগারে কয়েকদিন উড়তে পারে।যানটি চালনার জন্য বায়ু শক্তি ব্যবহার করা হয়।
পালতোলা বিমানটিতে রয়েছেঃ ফ্লাইট, তাপমাত্রা এবং গ্যাস সেন্সর পাশাপাশি ক্যামেরা দিয়ে সজ্জিত।অনুমানগতভাবে, পালতোলা বিমানের ওজন হবে মাত্র 11 পাউন্ড বা 4.9896 কেজি(1 পাউন্ড=0.4536 কেজি)। অ্যারোস্পেস জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে দলটি তার প্রস্তাবের বিশদ বিবরণ দিয়েছে।
মঙ্গল গ্রহের উপরে উড্ডয়ন
মঙ্গল গ্রহে ফ্লাইট চালানো একটা বড় চ্যালেঞ্জ।কেননা মঙ্গলের বায়ুমণ্ডল অনেক হালকা। উল্লেখযোগ্যভাবে, নাসার 4 পাউন্ড ইনজেনুইটি হেলিকপ্টারটি গত বছর মঙ্গলের জেজেরো ক্রেটারে অবতরণ করেছিল। তবে হেলিকপ্টারটি একবারে মাত্র তিন মিনিটের জন্য উড়তে সক্ষম হয়েছিল এবং এটি সর্বোচ্চ 12 মিটার উচ্চতায় পৌঁছেছিল।
অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং ডক্টরাল ছাত্র অ্যাড্রিয়েন বুস্কেলা গবেষণাপত্রে বলেছেন: "এই নতুন ধরনের প্রযুক্তিগুলি বেশি শক্তিশালী নয়।
আমরা যা প্রস্তাব করছি তা হল কেবলমাত্র শক্তি ব্যবহার করা।মিশন সম্প্রসারিত করে এগিয়ে যাওয়ার পদ্ধতিতে এটি একটি। কারণ প্রধান প্রশ্ন হল: কিভাবে জালানী ছাড়া উড়তে পারবে?সোলার প্যানেল ব্যবহার করা ছাড়া, রিচার্জ করা প্রয়োজন এমন ব্যাটারির উপর নির্ভর করে কীভাবে সেখানে থাকা বাতাস, তাপীয় গতিবিদ্যাকে ব্যবহার করতে পারেন?"
হালকা ওজনের, বায়ুচালিত পালতোলা উড়োজাহাজ উত্তর হতে পারে।প্লেনগুলির ডানা প্রায় 11 ফুট লম্বা।প্লেনগুলো একটু ঊর্ধ্বমুখী কোণে ধীর গতির।যার ফলে হলকা বাতাসেই উড়তে সক্ষম।প্লেনটি ধীরগতির হওয়ায় উচ্চ বাতাসে পৌঁছালে বায়ুপ্রবাহকে ঘুরিয়ে দেয় এবং উচ্চ-গতির বায়ু শক্তিকে সামান্য নিম্নমুখী কোণে যাওয়ার পথ তৈরি করে দেয়।এভাবে প্লেনটি বাতাসের উচ্চ-গতিকে কমিয়ে নিজের ভার্সাম্য রক্ষা করে।এই ভাবে পালতোলা উড়োজাহাজগুলি বায়ুমণ্ডল থেকে ক্রমাগত শক্তি সংগ্রহ করতে পারে, এবং এক সময়ে ঘন্টা বা এমনকি কয়েক দিন পর্যন্ত উড়তে পারে।
অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যারোস্পেস এবং মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সহযোগী অধ্যাপক পেপারের সহ-লেখক জেকান থাঙ্গা বলেছেন, ল্যান্ড-বাউন্ড রোভারগুলি বেশিরভাগই মঙ্গল গ্রহের সমতল, বালুকাময় সমভূমির ছবি তুলবে।সেইসব এলাকায় যেখানে রোভাররা নিরাপদে অবতরণ করতে পারে।এবং গিরিখাত এবং আগ্নেয়গিরির মতো ভূতাত্ত্বিক গঠনগুলির চারপাশে বায়ুর ধরণগুলি কীভাবে পরিবর্তিত হয় ইত্যাদি দিক নৌযানগুলি অন্বেষণ করতে সক্ষম হবে।

