
এলিজাবেথ ব্যাথরি কুমারীর রক্তে স্নান করেছিল
এলিজাবেথ ব্যাথরি ছিল ইউরোপের সবচেয়ে সুন্দরী নারীদের মধ্যে একজন।তিনি ছিলেন একজন ধনী এবং শিক্ষিত জমিদার কন্যা।সে তার রুপের অহঙ্কারী হয়ে উঠেছিল।যার ফলে সে খুজতে সুরু করে কিভাবে সে তার এই সুন্দর্য ও কুমারীত্ব সারা জীবন ধরে রাখবে।সে সফল ভাবে একটি উপায় খুজে পেল সেটা এরকম, "যদি সে কুমারী নারীদের রক্ত দিয়ে স্নান করতে পারে তাহলে, তার সুন্দর্য তরুন নারীদের মতো সারা জীবন থাকবে, কখনো সে বৃদ্ধ হবে না"।
এরপর থেকে এলিজাবেথ ব্যাথোরি কুমারি নারীদের ধরে ধরে হত্যা করে, তার রক্ত দিয়ে স্নান করে।এভাবে আনুমানিক প্রায় ৬০০ এর বেশি কুমারি নারীকে হত্যা করে, তাদের রক্ত দিয়ে স্নান করেছিল।
১৫৬০ সালের ৭ আগস্ট হাঙ্গেরির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় অঞ্চলের একটি ধনি পরিবারে জন্ম হয় এলিজাবেথ ব্যাথরির।ছোট থেকেই তিনি ছিলেন প্রচন্ড রকমের রাগী ও বদমেজাজি।
ছোটবেলা থেকেই এলিজাবেথ ব্যাথরি ভয়ানক সব দৃশ্য দেখে দেখে বড় হচ্ছিল। যেমনঃ একটি জীবন্ত ঘোড়ার পেট কেটে তাতে একজন মানুষকে ভিতরে ঢুকিয়ে দিয়ে, পেট টা সেলাই করে দেয়া হয়।এবং যতক্ষণ পর্যন্ত না ঘোড়া আর ঐ মানুষটা মারা যায় ততক্ষন পর্যন্ত অপেক্ষা করা হতো।আর তাই এইরকম ভয়ানক দৃশ্য দেখে তার ভিতরের হিংস্রতা আরও বেড়ে গিয়েছিল।মাত্র ১৩ বছর বয়সেই একটি জারজ সন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন তিনি।এরপর তার বিয়ে হয় ও ৪টি বাচ্চাও হয়।এভাবে অনেক সময় কেটে যায়।আর তার যৌবন ও সুন্দর্য রাস পেতে থাকে।তাই তার মাথায় এক অদ্ভুদ চিন্তা ভর করে, তার প্রবল বিশ্বাস ছিল যে, অল্পবয়সী কুমারী মেয়েদের রক্ত দিয়ে স্নান করলে এবং রক্ত পান করলে তিনি ‘চির যৌবন’ লাভ করতে পারবেন।
১৫৮৫ সালের দিকে একটি অল্পবয়সী নারী দাসী ভুলভাবে এলিজাবেথের চুল ব্রাশ করেছিল, তাই এলিজাবেথ ব্যাথরি সেই দাসীকে খুব নিষ্ঠুরভাবে চড় মারে। ফলে ঐ দাসীর মুখ থাপ্পড়ের কারনে রক্তের মতো লাল হয়ে উঠেছিল। এলিজাবেথ তখনই লক্ষ্য করেন যে, মেয়েটির গালের রং আরও বেশি তারুণ্যময় বলে মনে হচ্ছে।
যেহেতু, আগে থেকেই তার বিশ্বাস ছিল কুমারী মেয়েদের রক্ত দিয়ে স্নান করলে, ‘চীর যৌবন’ লাভ করা যায়।আর এই ঘটনার পর সে নিশ্চত হয়ে যা। এজন্য তিনি তার বিশ্বস্ত কর্মচারীদের সাহায্যে মেয়েটিকে কেটে তার রক্ত বের করে, স্নান ও পান করে। এরপর থেকে বহুবছর চলতে থাকে তার নৃশংস কর্মকাণ্ড। এভাবে দীর্ঘ ৫ বছর ধরে এলিজাবেথ নির্বিচারে কুমারী মেয়েদেরকে হত্যা করতে থাকেন। দীর্ঘদিন গরীব ঘরের মেয়েদের হত্যা করার পর এলিজাবেথ ব্যাথরি তারপর মধ্যবিত্ত ও ধনী শ্রেণীর মেয়েদের দিকে হাত বাড়ান।যার ফলে এলিজাবেথ ব্যাথরির এই নৃশংস কর্মকাণ্ড প্রকাশিত হয়ে যায়।
সর্বশেষে এলিজাবেথ একটি গানের দলের প্রধান মেয়ে কে হত্যা করার সময় ধরা পড়েন।
এরপর এই খবর হাঙ্গেরির রাজা দ্বিতীয় ম্যাথিয়াসের কাছে পৌছায়।আর রাজার আদেশে কাউন্ট গাইর্গি থুরজো হঠাৎ একদিন এলিজাবেথ ব্যাথরির বাড়ি তল্যাসি করতে যান।
এলিজাবেথ ব্যাথরির বাড়িতে তল্লাসি চালিয়ে, তারা অনেকগুলো আহাত ও প্রায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়া কুমারি নারীদের উদ্ধার করেন।এছাড়া পুরো বাড়ি তে আরোও ৫০ টি মৃতদেহ উদ্ধার করেন।আর তার সাথে এলিজাবেথ ব্যাথরি ও তার সাহায্য করীদেরকে গ্রেপ্তার করে।
যখন এলিজাবেথ ব্যাথরির বিচার করা হয় তখন, প্রধান দুই সহযোগীর একজন বলে, সে ৫০ জন নারীকে হত্যা করেছিল।আর অন্য জন বলে ৮০ জনকে হত্যা করেছিল। ৮০ জন নারীকে হত্যার দায়ে তাকে শাস্তি দেয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রকৃত পক্ষে তার হত্যা করা নারীর সংখ্যা ছিল ৬৫০ এরও অধিক সংখ্যক।এলিজাবেথ ব্যাথরির একটি ডাইরি থেকে জানা যায়।
এলিজাবেথ তার অভিজাত্য এবং প্রভাবশালী পরিবারের সদস্যদের কারনে মৃত্যুদণ্ড থেকে বেচে যায়।কর্তৃপক্ষ তাকে তার নিজের ঘরে একটি রুমে বদ্ধ অবস্থায় রাখা হয়।রোমটিতে ছোট একটি ছিদ্র( খাবার এবং পানীয়র জন্য) রেখে সব বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এলিজাবেথ বাথরির তিনজন প্রধান সাহায্য কারীকে জেলখানায় কঠোর নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছিল।এবং চতুর্থ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।গৃহবন্দী করার কয়েক মাস পরে এলিজাবেথ ব্যাথোরি মৃত্যুবরণ করেন।তাকে "Csejte Church" নামক কবরস্থানে দাফন করা হয়।দাফন করার কিছু সময় পরই তার মৃতদেহ কবর থেকে কেউ সরিয়ে ফেলে,যা পরে অন্য জায়গায় পাওয়া যায়।কিন্ত তাকে ঐ কবরস্থানে আর দাফন করতে দেওয়া হয়নি।কেউ চায়নি এই খুনি মহিলাকে তাদের পবিত্র ভূমিতে সমাহিত করতে।এরপর তার স্বজনরা লাশ নিয়ে অজানা কোনো যায়গায় পুনঃস্থাপন করেন।
