আমাজন বনে গুপ্তধন উদ্ধার করতে যেয়ে যা দেখলো ! পর্ব ৩

0

 

গল্পের ৩য় অংশ


একসময়  আবার সেই ঘরটির কাছা কাছি চলে গেছে এরকম সময় দেখলাম, সোজা নিচে মেঝের কিছু অংশ নেই ।সেখানে অন্ধকার দেখাযাচ্ছে।মনে হচ্ছে অনেক গভীর।ততক্ষনে উপরের ছাদটি আমাদেরকে নিয়ে অন্ধকার সরু ছিদ্র পথে নিচের দিকে নিয়ে ছুটলো।এভাবে অনুমানিক তিনদিন  ধরে নিচের দিকে যেতে থাকলাম।


চক্ষ মেলে তাকাতেই দেখলাম আশেপাশের সবকিছু এত সুন্দর যে চক্ষ ফেরাতেই পারছি না।উপরে তাকিয়ে দেখলাম আকাশটা অনেক সুন্দর।এবং নিচে ছিল সবুজ গাসের সমারোহ।ততক্ষনে সব ভুলে গেছিলাম।হঠাৎ মনে পড়লো আমরা তো কোন এক খাদে পড়তেছিলাম।এখানে কিভাবে আসলাম।পরে ভাবলাম হয়তো জ্ঞ্যান হারিয়ে ছিলাম।অনেক ক্লান্ত হয়ে  সবাই একসাথে এসে বসলাম।কিন্তু মনটা বসলো না।ওখানকার সবকিছু এত সুন্দর ছিল যে মনটা সুধু ছুটাছুটি করতে চাইছিল।মনে হচ্ছিল সর্গে চলে আসছি ।


খুব খিদে লেগেছিল।একটু বিশ্রামের পর খাবারের খোজে বেরিয়ে পড়লাম ।দেখতে পেলাম গাছগুলোতে এত সুন্দর ফল।ফলগুলো যেন আমাদের দিকেই তাকিয়ে আছে।কিন্তু গাছ গুলো এতটাই বড় ও উচু ছিল যে ফল পাড়বার মতো কারও সামর্থ ছিল না।তখন একজন বললো যদি ফলগুলো নিচে থাকতো।সাথে সাথেই সবফলগুলো বুটা ছিড়ে হাতের কাছে এসে ভেষে রইলো।এটা দেখে বোঝতে বাকি থাকলো না যে ফলগুলো যাদুর ফল।কিন্তু খিদেটা এতই বেশি ছিল যে ফল গুলো নিয়ে সবাই খেয়ে ফেললাম।সত্যিই ফলগুলো অসাধারন খেতে।


খাওয়া দাওয়া শেষে সবাই মিলে হাটছিল আর সেখানকার সুন্দর্য উপভোগ করছিলাম।এরকম সময় সামনে একটি অনেক বড় গাছ দেখলাম।গাছটা এতটাই বড় যে গাছের উপরের দিকে তাকাতেই মাথাটা গুরে যায়।সেই গাছটাতে দেখে মনে হচ্চে কিছু ফল ধরে আছে।কিন্তু ফলগুলো এত উপরে যে  নিচ থেকে অনেক ছোট দেখা যাচ্ছে।তখনি গাছটি থেকে একটা ফল পড়লো।ফলটি দেখতে অনেকটা আপেলের মতো।কিন্তু একটি ঘরের সমান বড়।ফলটির কাছে যেতেই দেখি একটি দরজা ।দরজাটি খুলে গেল! ভিতরটা দেখতে খুবিই সুন্দর।সাহসকরে ডুকে পরলাম।দেখলাম ভিতরটা ছোট একটা ঘড়ের মতো সেখানে রয়েছে।খাবার দাবার , সুয়ার জন্য নরম বিছানা, বসার জন্য আসবাব পত্র ইত্যাদি।সেখানে আমরা সবাই ডুকা মাত্রই দরজাটা বন্ধ হয়ে গেল।আর ফলটি উরে উরে চলতে থাকলো।একসময় আমাদের কে নিয়ে এক বিরাট ঘরে প্রবেশ করলো।এবং দরজাটি ফলের দরজাটি খুলে গেল(সংক্ষিপ্ত) ।


ফলটি থেকে নেমে দেখলাম সব দামি অলংকার দিয়ে ঘরটি সাযানো ।সেখানে ছিল সোনা , রোপা, হিরা , মনি মুক্তা ইত্যাদি ।এছাড়া রয়েছে বড় বড় পিতলের গামলা ভরা মনি মুক্তা।আমরা সবাই সেখান থেকে অনেক মনি, মুক্তা, সোনা, রোপা নিয়ে ফলটির ভিতরে রাখলাম।এবং আমরা সবাই ফলটির ভিতরে প্রবেশ করলাম।তখন দরজাটি বন্ধ হয়ে গেল এবং ফলটি আমাদের কে নিছে।ঘরটির বাইরে বেরিয়ে আসলো।এরপর ফলটি ঘুরতে থাকলো।এমনকি একসময় ঘূর্নন গতি এত বেশি হয়ে গেল যে আমরা সবাই জ্ঞ্যান হারিয়ে ফেললাম।


জ্ঞ্যান ফিরতেই দেখলাম আমি আমার বিছানায়।সুয়ে আছি।এত কিছু ঘটে যাওয়ার পর মনে খুব কষ্ট হচ্ছিল এই ভেবে যে এতক্ষন সপ্ন দেখছিলাম।এরকম সময় আমার পরিবারের সবাই আমাকে দেখে অনেক খুসি হয়েগেল।আমার মেয়ে বললো বাবা তুমি এতদিন পর আসলে কেন ।আরও আগে আসতে পারলে না।আমার স্ত্রি বললো আমাদের গুপ্তধন লাগবে না।তুমি ফিরে এসেছো এতেই আমরা খুসি।আমার মেয়ে বললো তুমি এসেছো আমার সাথে দেখা না করে বিছানায় সুয়ে আছো ।তখন বুজতে পারলাম।যে আমি সপ্ন নয় বরং সত্যিই গুপ্ধন উদ্ধার করতে গিয়েছিলাম।যদি তাই হয় তাহলে গুপ্তধন কোথায় ।তখন ঘরে খুজা খুজি করে দেখলাম চাঙ্গের (বর্তমানে খাট)  নিচে সকল ধনরত্ন রয়েছে।এরপর থেকে আমাদের সকল কষ্ট চলে গেল।এখন আমরা সবাই সুখে শান্তি তে বসবাস করতে লাগলাম।আর আমার যেই বন্ধু গুলোর মৃত্যু হয়েছিল তাদের পরিবারকেই সমান ধনসম্পদ দিয়ে সবাই একসাথে বসবাস করতে থাকলাম।


এই কথা গুলোই বলেছিল আমাজন বনের একবাসীন্দা।তবে গল্পটা আমি আমার দাদাদের কাছ থেকে সুনেছিলাম তাই ॥আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম।গল্পটা কেমন লেগেছে কমেন্টে যানাতে ভুলবেন না।

Post a Comment

0Comments
Post a Comment (0)