"পাতালপুরির রহস্য" গল্পটি রহস্যময় জাদুকরী কাল্পনিক মনছুয়ে যাওয়া রূপকথার বাংলা গল্প

0

 



একসময় এক দেশের ছোট একটি গ্রামে  সবাই যখন সুখ শান্তিতে বসবাস করছিল।একদিন গ্রামের সবাই বসে একটি মিটিং করছিল।হঠাৎ মিটিং এর পাশেই একটি পুরাতন রাজপ্রাসাদ মাটি ফেটে উপরে উঠে আসে।প্রাসাদটি ছিল তিন তলা বিশিষ্ট।প্রাসাদটি পুরোনো হলেও মোটেও নষ্ট দূর্বল ছিল না।প্রাসাদটির সবকিছুই খুব শক্তি শালি ছিল।গ্রামের সবাই প্রাসাদটি গুরে গুরে দেখলো।এর কারুকাজ সবাইকে অবাক করলো।সেই গ্রামেই বাস করতো এক ছেলে যার নাম ছিল, "আলো" এবং তার বয়স ছিল ১০ বছর।তবে সে ছিল খুব চালাক ও বুদ্ধিমান।এবং তার খুব ঘনিষ্ট এক মেয়ে বন্ধু ছিল, যার নাম ছিল, " চাদনী" তার বয়স ছিল ১০ বছর।তারা দুজনেই ৫ম শ্রেনিতে লেখাপড়া করছিল


সবার সাথে আলো ও চাদনী  দুজনেও প্রাসাদটি গুরে দেখলো।আলো ছিল অনেক চালাক তাই সে প্রাসাদটি নিখুত ভাবে দেখতে থাকলো।এবং এক কোনে একটি বই দেখতে পেল, বইটি হাতে নিয়েই সে বাড়িতে চলে যায়।এবং পরে চাদনীকে ডেকে এনে বইটি খুলে, বইটি খুলতেই বইয়ে আলোক উজ্জল হয়ে যায়।তারা দুজনে বইটি পরে, বইটির ১ম পৃষ্টায় লেখাছিল, প্রতি পৃষ্টার সম্পূর্ন কার্যক্রম শেষ করে দ্বিতীয় পৃষ্টা খুলতে হবে, তানাহলে বইটি বৈদ্যুতিক শক দিবে।চাদনী তবুও মাঝখান থেকে কয়েকটি পাতা খুলতে চাইলে পারলো না।এবং সে হালকা বৈদ্যুতিক শক অনুভব করলো।আলো বললো থাক চাদনী আমরা একে একে সব পাতা খুলে দেখবো।


এরপর দ্বিতীয় পৃষ্টায় লেখা দেখলো, বইটি একটি পাতাল পুরির বিরাট রাজ্যের রহস্যের সমাধান করতে দুজন সাহসি লোকের পথ প্রদর্শক হিসেবে রচিত।পাতাল পুরিটি হিরা,মুক্তা, ও সোনার তৈরি বিরাজ রাজ্য ।যেটা কোনো কারনে অভিসপ্ত হয়েছে, তাই পৃথিবীর মানুষ ধারা পাতাল পুরি অভিসপ্ত মুক্ত হতে পারবে।যারা পাতাল পুরির রহস্যের উদঘাটন করবে তাদের পাতাল পুরির পক্ষ থেকে পুরষ্কৃত করা হবে এব নিজ নিজ বাড়িতে পৌছে দেওয়া হবে।সম্পূর্ন রহস্য উদঘাটনের পথ প্রদর্শক বইটিতে সব কিছু লেখা আছে।তৃত্বীয় পৃষ্টায় দেখলো, প্রাসাদটির নিচ তলায় উত্তর-পূর্ব কোনে একটি লিফট রয়েছে সেখানে যাও।

এটা দেখে তারা দুজন সেখানে যায়।এবং বইটি অনুসরন করে লিফ্ট উঠে বসে ও চালু করে দেয়।লিফ্টটি মাটির নিচের দিকে চলতে লাগলো, আর মুহূর্তের মাঝেই স্পিজ অনেক বেড়ে গেল।যার ফলে তার দুজন লিফ্টে জ্ঞ্যান হারলো।


হঠাৎ তাদের চোখ খুলতেই দেখলো তারা একটি বিশাল প্রাসাদের সামনে এসে পরেছে।প্রাসাদটি সোনার তৈরি ।তারা লক্ষ করলো তারা অনেক বড় হয়ে গেছে ।তখন সেই বইটি থেকে জানতে পারলো, তাদের পাতালপুরিতে পৌছতে সময় লেগেছে ১০ বছর।অতএব তাদের  বয়স এখন ২০ হয়েগেছে।তারা অবাক হয়ে একে অন্যকে দেখতে লাগলো।দুই জনেই অনেক লম্বা এবং স্বাস্থ বান হয়েছে।সরীরে অনেক শক্তি এসেছে।তারা বইটি অনুসরন করে প্রাসাদটির ভিতরে ডুকলো।ভিতরে যেয়ে তারা তো অবাক, তারা যেটাকে প্রাসাদ ভাবছিল সেটা আসলে একটি গেইট এবং দরজা।ভিতরে ছিল রুপার তৈরি রাস্তা ও রাস্তার পাশে সুন্দর সুন্দর ফুল ও ফল গাছ।তারা কিছু ফল খেল।ফল গুলো ছিল সুমিস্ট ও সুস্বাদু।তৃপ্তি ভরে খাওয়ার পর তাদের  মনে হলো এটা কি স্বর্গ নাকি।সেখ্নকার সবকিছু ছিল অনেক সুন্দর।সেখানকার পশুপাখি ও বিভিন্ন প্রানি গুলো ছিল অসাধারন সুন্দর ।যাদের কে দেখলেই মনটা ভরে যায়।তারপর বই অনুসারে সামনে যেতেই দেখলো অসাধারন এক পরী , সে তাদের কাছে এসে বললো , বইটিতে দেখ আর কিছু লেখা নাই।এবার তোমরা আমাকে অনুসরন করে চলো।তারপর পরি তাদের কে নিয়ে একটি সন্দর ঘরে নিয়ে বসালো এবং বললো, এই অসাধারন সুন্দর পাতাল পুরি অভিসপ্ত হওয়ার কারন ,এই পাতাল পুরির শ্রেষ্ট ও সবচেয়ে বড় রাজ্যের রাজার কন্যার জন্য।সেই রাজার নাম ছিল, "সিরাজ খান" ।সেই শ্রেষ্ট রাজা ছিল খুবই ভালো।ঐ রাজ্যেই বাস করতো এক জেলের মেয়ে, যার নাম ছিল, "ডইলিন" , সে ছিল খুব অহংকারী ও বদমেজাজী জাদুকরী নারী।জেলের মেয়ে রাজাকে খুব পছন্দ করতো এবং তাকে বিয়ে করে সমস্ত ধন সম্পদ ও ক্ষমতার মালিক হতে চাইতো।আর তাই সে মেয়ে যখন মন্ত্রীর কাছে রাজার সাথে তার বিবাহের কথা বললো, তখন মন্ত্রী রেগে তাকে হত্যার নির্দেশ দেয়।জেলের মেয়ে  জাদু বিদ্যায় পারদর্শি হওয়ায় তাকে হত্যা করতে পারে নি।ডইলিন এতে রেগে যায় আর বড় ধরনের পরিকল্পনা করে।।রাজার যখন বিবাহ হয় অন্য একটি রাজ্যের রাজ কন্যার সাথে সাথে তখন জেলে মেয়ে ডইলিন সেই রাজ কন্যাকে হত্যা করে সে নিজে ঐ রাজ কন্যার রূপ ধরে রাজার সাথে বিবাহ করে রাজ্যে আসে।তবে সে ভালো মেয়ের মতোই সংসার করে।একসময় তাদের একটি কন্যা সন্তান হয়।তার নাম রাখা হয়, "মিলি" ।ডইলিন তার কন্যা সন্তানকে জাদু ও বিভিন্ন মন্ত্রের সাহয্যে শক্তিশালি ও নিজের মত করে গড়ে তুলে ।মিলি তার মায়ের মতো অহংকারী ও অত্যাচারী হয়ে উঠে।এবং সে ছিল অনেক সুন্দরী।তাই সে নিজেকে শ্রেষ্ঠ সুন্দরী দাবী করতো।যদি কাউকে তার চেয়ে বেশি সুন্দর মনে হতো তবে তাকে হত্যা করতো।মিলি দেখতে অনেক সরল সোজা ও সুন্দর মনের মনে হয়।তাই যে কেউ তার ফাদে সহজে পরে যায়।এভাবে মিলির বয়স যখন ১৭ বছর হয়, তখন থেকেই সে ও তার মার অত্যাচার বেড়ে যায়।তারা মা-মেয়ে দুজনে মিলে রাজাকে জাদু করে পাথর বানিয়ে ফেলে।এবং মিলি  রাজ্য স্বাসনের দায়িত্ব নেয়।ফলে পুরো রাজ্যে অশান্তি নেমে আসে।মিলি রাজ্যের সকলের ধন সম্পদ কেরে নিতে সুরু করে।ও যুবকদেরকে যোর যবরদস্তির উপর ধর্ষন করে মেরে ফেলে।এবং রাজ্যে তার কালো যাদুর সাহায্যে যে কাউকে তার বসে নিয়ে আসে।এবং তাকে দিয়ে যা তা করায়।এভাবে পুরো রাজ্য সহ পুরো পাতাল পুরির সুখশান্তি দূর হয়।সবাই সব সময় আতংকে থাকে।


এসময় এক অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী বুঝতে পারে এই সমস্যা একমাত্র মানুষি করতে পারে।এরপর সে আমাকে এই বইটি সহ পৃথিবী পৃষ্ঠে পাঠায়।আর তোমরা আমাদের সঙ্গী হয়ে এসেছো।এখন তোমাদের কাজ হল ঐ দুই ডাইনিকে পরাস্ত করে রাজাকে উদ্ধার করে রাজ্যে সুখ ফিরিয়ে আনা।তারা দুই ডাইনি খুবই শক্তিশালি ,তোমরা সরাসরি তাদের সাথে লরাই করে পেরে উঠবে না।আমরা সুনেছি তোমাদের বুদ্ধি অনেক বেশি তাই তোমাদের বুদ্ধির সাহায্যে মিলি ও তার মাকে হারাতে হবে।এবার তোমাদেরকে ঐ দুই জনের সাথে লড়াই করতে হবে।এরপর আলো ও চাদনী দুজনে বুদ্ধির সাহায্যে মিলি ও তার মাকে পরাস্ত করে।এবং রাজাকে মুক্ত করে।পুরো পাতাল পুরিতে আবার শান্তি ফিরে আসে।এরপর আলো ও চাদনীকে রাজা সম্মান ও অনেক পুরষ্কার দিয়ে তাদের কে সেই লিফটের মাধ্যমে আবার আগের মত করে পৃথিবী পৃষ্ঠে ফিরে।পৃথিবী পৃষ্ঠে আসলে তারা লক্ষ করে তাদের বয়স ৩০ বছর হয়ে গেছে।এই দীর্ঘ ২০ বছর পর সবাই তাদেরকে দেখে অবাক হয়ে যায়।এবং তারাও সবাইকে ও পৃথিবীর সকল প্রযুক্তি ও উন্নতি দেখে অবাক হয়।কিন্তু দীর্ঘ সময় পর পৃথিবীতে তারা নিজেদেরকে সবার সাথে মানিয়ে নিতে পারছিল না।এবং পাতাল পুরির সব সুন্দর্য ও সুন্দর মানুষ দেখার পর এখান কার কোনো কিছুই তাদের ভালো লাগে না।তাই তারা দুজন বিয়ে করে এক সাথে আত্যহত্যার সিদ্ধান্ত নেয়।আর তারা দুজনে তাই করে।তারা দুজন ফাসি দিয়ে মারা যায়।এমন সময় আলো চোখ খুলতেই দেখে সে বিছানায় সুয়ে আছে।এবং সে বুজতে পারে সে এসব কিছু স্বপ্নে দেখেছে।কিন্তু সে কোনো ভাবেই বিস্বাস করতে পারছে না যে সে এসব স্বপ্নে দেখেছে।তার মনে হচ্ছে সব কিছু বাস্তব।আর তখনি চাদনী তার কাছে এসে ঠিক একই কথা বলে, যে সে সপ্নে ঐ একই জিনিস দেখেছে।তখন তারা দুজনে সিদ্ধান্তে আসে যে এটা স্বপ্ন না এটা হয়তো বাস্তব।

Post a Comment

0Comments
Post a Comment (0)