বডি ফিট ও সম্পূর্ন সুস্থ থাকার সঠিক উপায়

0

 আমরা সবাই বডি ফিট এবং স্বাস্থবান মানুষকে পছন্দ করি।এবং আমরা নিজেরাও বডি ফিট এবং স্বাস্থবান হতে চাই।কিন্তু খুব কমসংখক মানুষই আছে যারা সঠিক ভাবে বডি ফিট এবং স্বাস্থবান হতে পারে।কিভাবে বডি ফিট করা যায় তা নিয়ে আজ বিস্তারিত জানবো।

right-way-to-stay-fit-and-fully-healthy


বডি ফিট করতে হলে যা যা  করতে হবেঃ

১। স্থুলতা দূর করা।

২। অখাদ্য কো খাদ্য পরিহার করা।

৩।ধুমপান ও নেশা জাতীয় সব কিছু পরিহার করা।

৪। খারাপ পরিবেশ ও কু-চিন্তা ভাবনা পরিহার করা।  

৫। সপ্নদোষ ও  হস্তমৈথুন এর মত বাজে  কাজ পরিহার করা।


৬। প্রতিদিন পর্যাপ্ত ব্যয়াম করতে হবে।

৭। ঠিকমত ঘুমাতে হবে।

৮। নিয়মিত পুষ্টিকর ও স্বাস্থ সম্মত খাবার খেতে হবে।

৯। ওজন কম বা বেশি থাকলে পরিমিত পর্যায়ে নিয়ে আসতে হবে।

১০। দৈহিক পরিশ্রমের উপর নির্ভর করে পর্যাপ্ত পরিমান খাদ্য খেতে হবে।


এবার চলুন সঠিক ভাবে বডি ফিট এবং স্বাস্থবান হওয়ার উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত দেখে আসিঃ


১। স্থুলতা দূর করা।


যাদের ওজন অনেক বেশি , তাদের কে ওজন কমাতে হবে।এর জন্য বিএমআই(BMI) নির্নয় করে সহজেই বুজা যায় কার কতটুকু ওজন থাকা প্রয়োজন।

বিএমআই(BMI) নির্নয় করার সূত্র হলঃ

BMI=ওজন(কেজি)÷উচ্চতা( মিটার স্কয়ার বা মিটারের বর্গ)

যেমনঃ একজন ব্যাক্তির ওজন ৭০ কেজি।এবং উচ্চতা ৫ ফিট ২ ইনচি

 বা (৫×১২+২) =৬২ ইনচি

  বা (৬২×২.৫)=১৫৫ সেন্টিমিটার=১.৫৫ মিটার।


অতএব লোকটির BMI=৭০÷(১.৫৫)`২

=৭০÷১.৫৫×১.৫৫=৭০÷২.৪০২৫=২৯.১৪

অতএব লোকটির BMI=২৯.১৪


আমরা জানি, বিএমআই(BMI) এর মান আদর্শমান ১৮.৫ থেকে ২৪.৯ ।১৮.৫ থেকে কম হলে ওজন কম পরিমিত খাদ্য গ্রহন করে ওজন বাড়াতে হবে।আর ২৪.৯ এর বেশি হলে ওজন অনেক বেশি পরিমিত খাদ্য গ্রহন ও ব্যয়াম করে ওজন কমাতে হবে।বৈজ্ঞানিক গবেশনায় দেখা যায়, শরীরের প্রয়োজনের থেকে বেশি খাদ্য গ্রহন করলে তা মেদ হিসেবে সরীরে জমা হয়।যার ফলে ওজন বেড়ে যায়।এবং শরীরে প্রয়োজনমত খাদ্য গ্রহন করলে ওজন একই থেকে যায়, বাড়েও না কমেও না।তাই ওজন কমাতে চাইলে খাদ্যগ্রহন প্রয়োজনের তুলনায় কমাতে হবে।এক্ষেত্রে খাদ্যের পরিমান কমালেও দৈনিক পুষ্টির চাহিদা পুরন করতে হবে।তা নাহলে শরীরে নানা রকম অসুখে বাসা বাধবে।ধিরে ধিরে খাদ্যগ্রহন কমাতে হবে ও চর্বি জাতীয় খাদ্য , সর্করা ও ফাসফোর্ড জতীয় অধিক ক্যালরি যুক্ত খাদ্য কম পরিমান গ্রহন করতে হবে।এবং প্রচুর ব্যয়াম বা শারিরিক পরিশ্রম করতে হবে।আর যদি ওজন অনেক বেশি থাকে , বিএমআই এর মান ৪০ এর উপরে তাহলে মৃত্যু ঝুকি রয়েছে।তাই অতিদ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।



২। অখাদ্য কো খাদ্য পরিহার করা।


শারিরিক অসুস্থতা,দূর্বলতা,স্থূলতা, ইত্যাদি সমস্যার মূল কারন অখাদ্য কো খাদ্য গ্রহন।যার ফলে স্বাস্থ ঠিক থাকে না।বডি ফিট থাকে না।অখাদ্য কো খাদ্য হলঃ ফাসফুর্ড, জাংকফুড, বাইরের খাবার, অধিক তেলে ভাজা বা অধিক চর্বি জাতীয় খাদ্য, বিভিন্ন রং মেশানো খাদ্য যেমনঃ কালারিং আইসক্রিম ও চকলেট ইত্যাদি,পচা-বাসি খাবার, ইত্যাদি খাদ্য পরিহার করতে হবে।এসব খাবার খেলে না রকম অসস্থতায় ভুগার সম্ভাবনা রয়েছে।যার ফলে স্বাস্থ ঠিক বা বডি ফিট থাকবে না।তাই বডি ফিট রাখতে হলে এসব খাদ্য পরিহার করতে হবে।


৩।ধুমপান, মাধক দ্রব্য ও নেশা জাতীয় সব কিছু পরিহার করা।


সবাই জানে নেশা একটা ক্ষতিরক দিক।কিন্তু কেউ এটা মানতে রাজি না।প্রায় ৯৫% লোক কোনো না কোনো ভাবে নেশা জাতীয় দ্রব্য ব্যবহার করে।অনেকে সরাসরি মাধক জাতীয় দ্রব্য ব্যবহার করে।আবার অনেকেই অন্যন্য দ্রব্য ব্যবহার করে।মাধক দ্রব্য আমাদের সরীরের জন্য মারাত্বক ক্ষতি করে থাকে।যার ফলে সরীরের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিভিন্ন অঙ্গ বিকলঙ্গ বা মারাত্ব ক্ষতির সম্মুখিন হয়।যে কারনে সরীরের সব কার্যক্রম ঠিক থাকে না।আর বডি ফিট বা সুস্থ  থাকে না।তাই বডি ফিট রাখতে হলে সকল প্রকার মাধক ও নেশা জাতীয় দ্রব্য পরিহার করতে হবে।


৪। খারাপ পরিবেশ ও কু-চিন্তা ভাবনা পরিহার করা।  


একটা মানুষ কেমন হবে তা অনেকটাই পরিবেশের উপর নির্ভর করে।পরিবেশ যে সুধু তার চারিত্রিক বৈশিষ্টের প্রভাব পরে এমনটা না।চারিত্রিক বৈশিষ্টের  পাশা পাশি সারীরিক গঠনের দিক দিয়েও অনেক পরিবর্তন ঘটাতে সক্ষম।যেমন নেগেটিভ বা অশ্লীল চিন্তা ভাবনা করলে সরীরের বিভিন্ন হরমোন ক্ষরিত হয় এবং সরীরের ওজন কমে যায় বা গঠনের পরিবর্তন ঘটে।তাছাড়া অধিক টেনসন যে কোন রুগের জন্ম দিতে পারে।এবং অধিক টেনসন করলে সরীরের ওজন কমে যায় এবং মাথায় অত্যাধিক চাপ পরায় পাগল পর্যন্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

টেনসন মুক্ত থাকার উপায় হচ্ছে বিভিন্ন ব্যয়াম, তার মধ্যে সবচেয়ে কার্য করী হল ইয়োগা।ইয়োগার নিয়ম হলোঃ মেরু দন্ডের হার ও গাড় সম্পূর্ন সোজা করে আসন পেতে বসে, হাত দুটো হাটুর উপর রাখতে হবে।তারপর ধিরে ধিরে  স্বাস নিতে হবে।আবার ধিরে ধিরে  স্বাস ছারতে  হবে।আর তার সাথে সাথে পৃথিবীর সকল চিন্তাভাবনা ছেড়ে অনেক মনোযোগী  হয়ে নিজের স্বাস প্রস্বাস অনুভব করুন।এভাবে ৫-২০ মিনিট করুন।প্রয়োজনে ইউটিউবে ইয়োগা করার নিয়ম দেখে আসতে পারেন।


৫। সপ্নদোষ ও  হস্তমৈথুন এর মত বাজে  কাজ পরিহার করা।


আমাদের সরীরের সবচেয়ে মারাত্বক ক্ষতী করে অধিক সপ্নদোষ বা  হস্তমৈথুন।সপ্তাহে ৩ দিন সপ্নদোষ বা  হস্তমৈথুন হলে বেশি সমস্যা নেই।তবে যদি এর চেয়ে বেশি বা প্রতিদিন হলে সমস্যা মারাত্বক আকার ধারন করে।এর ফলে সারীরের ওজন কমে যায়।হাড় গুলো চিকন ও দূর্বল  হয়ে যায়।সরীরের গঠন দেখতে খারাপ দেখায়।তাছাড়া মাথা ব্যাথা সহ নানা রকম অসুখ দেখা যায়।প্রস্রাবে সমস্যা , ব্যথা বেধনা বা ধাতু যেতে পারে।যার ফলে সরীর দুর্বল হয়ে পরে।কোনো কিছু ভাললাগে না।সবসময় মন খারাপ থাকে।আর মন খারাপ মানেই সব খারাপ।তাই অতিদ্রুত সপ্নদোষ বা  হস্তমৈথুন ছাড়তে হবে।


যেহেতু এটাও একটা মাধকের মতো নেশা।এমনকি অনেকে এতে আসক্ত হয়েছে।তাই হঠাৎ এটা ছাড়া সহজ না।তাই ধিরে ধিরে সপ্নদোষ বা  হস্তমৈথুন কমিয়ে আনতে হবে।যাদের এই অভ্যাস রয়েছে তারা গুগল বা ইউটিউব  অথবা গার্জিয়ান, বড় ভাই বোন , বা মুরব্বিদের কাছ থেকে সপ্নদোষ বা  হস্তমৈথুন ছাড়ার উপায় জেনে নিতে পারেন।


৬। প্রতিদিন পর্যাপ্ত ব্যয়াম করতে হবে।


সরীর ফিট বা বডি ফিট করার সবচেয়ে কর্যকর পদ্ধতি হল, ব্যয়াম করা।ব্যয়ামের মাধ্যমে সরীরকে যে রকম ইচ্ছা সেরকম গঠন করা সম্ভব।তাই ব্যামের বিকল্প নেই।মানব সরীরের গঠন এরকম, সরীরের কোন অংশ যতটুকু ক্ষয় প্রাপ্ত হবে প্রয়োজনীয় পুষ্টি পেলে তার দ্বিগুন ক্ষয় পুরন হবে।তারমানে ব্যয়ামের ফলে সরীরে যে ক্ষয় হবে তা দ্বিগুন হয়ে পূরন হবে।তবে  হ্যা এর জন্য পর্যাপ্ত পুষ্টি প্রয়োজন।যদি পুষ্টির অভাব হয় তবে ঐ ক্ষয় পূরন হবে না।যার ফলে সরীর দুর্বল ও চিকন হয়ে যাবে।তাই ব্যয়ামের পাশাপাশি পর্যাপ্ত পরিমান পুষ্টি সমৃদ্ধ খাদ্য গ্রহন করতে হবে।


সরীর সুস্থ ও বডি ফিট রাখার কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ব্যয়াম হলোঃ


1.  Planks

2. Tricep Drips

3. Lunge

4. Bycycle

5. West crunches


এই ব্যয়ামগুলো লিখে পুরোপরি বুঝানো সম্ভব না।তাই ইউটিউব থেকে সহজে দেখে বুজে নিন।


৭। ঠিকমত ঘুমাতে হবে।


সরীর সুস্থ রাখার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন হল ঘুম।ঠিক মত না ঘুমালে সরীরে নানা রকম সমস্যা দেখা দেয় ও বিভিন্ন অসুখ দেখা দেয়।একজন সুস্থ ব্যক্তির দৈনিক কমপক্ষে ৬ ঘন্টা ঘুম পাড়া উচিত।তবে দৈনিক ৮ ঘন্টা ঘুম পাড়া উত্তম ।এর চেয়ে অধিক বেশি বা কম পরিমান ঘুম পারলেই সরীরে দেখা যায় নানা রকম সমস্যা।তাই ফিট থাকতে হলে নিয়মিত ৬-৮ ঘন্টা ঘুমাতে হবে।


৮। নিয়মিত পুষ্টিকর ও স্বাস্থ সম্মত খাবার খেতে হবে।


সরীর গঠনের মূল উপাদান হচ্ছে পুষ্টিকর ও স্বাস্থ সম্মত খাবার।অপুষ্টিকর খাদ্য খেলে দেহে পুষ্টিহীনতা সহ না রকম অসুখ দেখা যাবে।তাই প্রতিদিন নিয়মিত মাছ, মাংশ, ডিম, দুধ, ডাল, সর্করা, ফলমুল ও সাকসবজি ইত্যাদি পর্যাপ্ত পরিমান খেতে হবে।


৯। ওজন কম বা বেশি থাকলে পরিমিত পর্যায়ে নিয়ে আসতে হবে।


সরীরের অতিরিক্ত ওজন থাকলে, ওজন কমাতে হবে।এর জন্য পরিমিত খাদ্য গ্রহন ও ব্যয়াম করা প্রয়োজন।


আবার ওজন কম হলে, বেশি বেশি পুষ্টি কর খাদ্য গ্রহন করতে হবে এবং ওজন বাড়াতে হবে।

 ওজন বাড়ানোর উপায় জানতে নিচের পোষ্টটি পরে আসুন:


কিছু ঔষধের সাহায্যে প্রাকৃতিক ভাবে মোটা হওয়ার ১০০% সঠিক উপায়


১০। দৈহিক পরিশ্রমের উপর নির্ভর করে পর্যাপ্ত পরিমান খাদ্য খেতে হবে।


প্রতিদিন আপনি কি পরিমান পরিশ্রম করুন বা খেলা ধুলা করুন তার উপর নির্ভর করে খাদ্য গ্রহন করতে হবে।যদি বেশি পরিশ্রম করেন তবে বেশি পরিমান পুষ্টি কর খাদ্য গ্রহন করতে হবে।আর যদি কম পরিশ্রম  করেন , তাহলে কম পরিমান খাদ্য গ্রহন করতে হবে।


Post a Comment

0Comments
Post a Comment (0)