"কল্পনিক দেশ" দূর্নীতি মুক্ত সুখের স্বপ্নের এক দেশ গড়লো এক ছেলে, অসাধারন একটি কাল্পনিক গল্প।

0

 

বাংলার মধুময় প্রকৃতি



একটি গ্রামে একটি ছেলে বাস করতো।তার নাম ছিল "দূর্জয়"।সে ছিল খুবই চালাক ও অনেক বুদ্ধিমান।এমন কি জ্ঞ্যানি মানুষদের চেয়ে ১০০০ গুন বেশি বুদ্ধিমান ছিল সে।সে বাংলাদেশ নামক এক দেশের নাগরিক ছিল।যখন তার বয়স ২০ বছর তখন দেশটি ছিল দূর্নিতীতে জর্জরিত।দেশে ছিল না কোনো শান্তি।চুর, ছিন্তাইকারী, ডাকাত, এবং বিভিন্ন খারাপ চক্রের অভাব ছিল না।এক মিনিটের জন্যও কেউ নিশ্চিন্তে চলতে পারছিল না।জান মালের ভয়ে সবাই সব সময় আতংকে ছিল।পুলিশ , রাজনেতা ও দুর্নিতী বাজ এবং বিভিন্ন কালো চক্র এক হয়ে দেশটাকে শোষন করতে থাকে।দেশের সরকার ছিল খুবই খারাপ প্রকৃতির।যদিও প্রকাশে সব ভালো কাজের নমুনা দেখায়।তবে তলে তলে সকল খারাপ কজ করে বেড়ায়।এতকিছুর কারনে মানুষের জীবন হয়ে উঠে অতিস্ট।তবুও মনে হয় যেন কিছুই হয় নি, আসলে তারা অত্যাচার সহ্য করতে করতে অভ্যস্ত হয়ে গেছে।প্রতিদিনই হাজারো নারী ধর্ষিত হয় কিন্তু একজন ধষকেরও বিচার হয় না।মানুষ এর প্রতিবাদও করতে পারে না।দু একজন প্রতিবাদ করতে গেলে, তাকে আর জীবিত পাওয়া যায় না।কিছু ভালো নেতাদেরকে আবার মিথ্যা মামলা দিয়ে যাবৎ জীবন কারাডন্ড বা মৃত্যুদন্ড দেওয়া হয়।এই সব খবর পরে ছেলেটার মনে সে জেন কোন রুপকথার গল্প সুনছে।আসলে বাস্তবে একটি দেশ এতটা নিচে নামতে পারে তা সে ভাবলেই সরীল সম্পন দিয়ে উঠে।এই সকল অত্যাচার ও দুর্নীতির বিরোদ্ধে ছেলেটি সোচ্ছার হয়ে উঠে।সে বুঝতে পারছিল সে সরাসরি অত্যাচার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ তুলে কিছুই করতে পারবে না।তাই সে ভাবলো ছলে বলে কলে কৌষলে তাকে সরকার হতে হবে তারপর সব নিয়ম চেন্জ ও কঠোর আইন প্রনয়ন করে দেশে শান্তি ফেরত আনতে হবে।


আর এই উদ্যেশ্যে  সে কাজ করতে সুরু করে।সে তার বদ্ধির সাহায্যে দেশে টাকা তৈরির একটি মেশিনের মত হুবুহু একটি মেশিন তৈরি করে।এবং অনেক টাকা তৈরি করে।সেই টাকা খরচ করেই সে নেতাদের সাথে মিল বাড়াতে থাকে এবং এক পর্যায়ে দুর্নীতিবাজ সেনা প্রধান কে লোভ দেখিয়ে ও নগদ অর্থ প্রদান করে নিজের দলে নিয়ে আসে।এবং অনেক বড় বড় নেতাদের কে নিজের দলে নিয়ে আসে।তার সাথে সাথে হাজার হাজার সেনা বাহীনি তার নিরা পত্তার জন্য সে নিয়োগ করে ।অব শেষে সে সরকার ও তার কিছু চামচাদের কে মিথ্যা মামলায় ফাসিয়ে নিজে সরকার হয়ে যায়।দুর্জয় সরকার হবার ৬মাস পর্যন্ত সব কিছু আগের মতো চলতে থাকে ।আর এই ৬মাস দুর্জয় দেশের সব সৎ- সাহসি ও বুদ্ধিমান লোকদের খুজে বের করে।এবং তাদের সাহায্যে সেনা প্রধানকে এক মামলায় ফাসিয়ে সেখা ঐ সৎ- সাহসি ও বুদ্ধিমান লোকদের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালি এক জনকে সেনা প্রধান করে।এভাবে দেশের প্রত্যেকটা বড় নেতাকে পরিবর্তন করে সৎ- সাহসি ও বুদ্ধিমান লোকদের নিয়োগ করে।এরপর সকল আইনি নিতি পরিবর্তন করে কঠোর আইন প্রনয়ন করে।এবং নতুন করে দেশে এক বাহীনি তৈরি করে যাদের কাজ হবে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা ও সকল সরকারী ও বে সরকিরী প্রতিষ্ঠানের দিকে নজর রাখা , যেন কেউ দূরনিতী করতে না পারে।এবং প্রতিটি মামলা ১ মাসের মধ্যে শেষ করতে হবে , এমন নির্দেশ জারি করা হয়।কোনো ধর্ষন কারী বা খুনিকে ফাসির ডাইরেক্ট ফাসি দেওয়া হয়।এবং একটি ওয়েব সাইট চালু করা হয় যেখানে দেশের প্রত্যেকটা নাগরিকের নাম ঠিকানা সব কিছু রয়েছে।এই ওয়েবসাইটে যে কেউ কোনো নাগরিকের বিরোদ্ধে অভিযোগ করতে পারবে।এই অভিযোগটি পাবলিক থাকে, যা সকল নাগরিক দেখতে পারে।তবে অভিযুগকারীর কোনো তথ্য কেউ দেখতে পারবে না।এখানে যার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হবে, সরকারী ভাবে তা তদন্ত করা হয়।

যদি কোন সরকারী লোক দূর্নীতি করে তাকে হাত-পা কেটে যাবৎ জীবন কারাদন্ড অথবা মৃত্যুদন্ড দেওয়া হয়।


এরপর দেশের মুদ্রার মান অনুযায়ী, দেশের সকল টাকা সরকার নিয়ে তাকে মুদ্রার মান অনুযায়ী টাকা দেওয়া হয়।এবং সকল পন্য ও দ্রব্যের সেই হিসেবে মূল্য নির্ধারন করে মুদ্রার ভার্সাম্য রক্ষা করে।


এবং দেশের  সকল ফকির ও হত দরিদ্র যারা ঠিক মত খেতে পারে না  তাদেরকে সার্টিফিকেট দেওয়া হয়।যেটা ব্যাবহার করে দেশের সকল সাধারন খাবার তারা খেতে পারবে।তবে খাবারেই সেই অর্থটা একটা নির্দিষ্ট পরিমান দেওয়া ছিল।যেন কেউ বেশি খরচ বা অপচয় করতে না পারে।আর এই সকল খাবারে খরচ হিসেবে দেশের ধনি লোকদের থেকে তার মোট সম্পদের একটা নির্দিষ্ট হারে টাকা তুলতো।এভাবে সবার খাদ্য চাহিদা মেটে।দুর্জয় মনে করতো মানুষ একমাত্র পেটের টানেই চুরি করে।এখন যেহে খাদ্য সমস্যা নেই তাই সে চুরির বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রনয়ন করে।ছোট হক আর বড় হক কেউ চুরি করলে সাজা একটাই প্রথমবার চুরি করলে এক হাত ও এক পা কেটে ফেলা হবে।দ্বিতীয় বার একই কাজ করলে তাকে চার হাত পা কেটে  একটি মানব শূন্য এক জেল খানায় রেখে আসা হবে।জেলখানাটির নাম হল " ফিরবেনা" যেখানে থাকবে ভয়ঙ্কর সব পশু পাখি।সেখানে থাকবে না কোনো ঘর ।জেল খানাটি হবে কৃত্তিম ভয়ঙ্কর বন।যেই বন থেকে বের হওয়া কোনো ভাবেই সম্ভব না।সেখানে খাবার হিসেবে কোনো খাদ্য থাকবে না।সেখানে বড় বড় অপরাধীকে মৃত্যুর চেয়েও কষ্টকর ভাবে সাজা দেওয়া হয়।সারাদেশে যে কোন মামলা কঠোর হলে তাকে এই জেলে এনে অনাহারে কষ্ট দিয়ে মৃত্যু দেওয়া হয়।তবে জেল খানাটিতে রয়েছে পাথরে খোদাই করা অসংখ্য সৎ উপদেশ , বানী ও বিভিন্ন ধর্মের কথা।যা থেকে অপরাধী যেন মৃত্যুর আগে ভাল হয়ে মৃত্যুবরন করতে পারে।


দুর্জয় দেশ উন্নয়নের জন্য কাজ সুরু করে।এবং দেশের প্রত্যেকটা নাগরিকদের যার যার যোগ্যতা ও পরিবেশ ও পরিবারের এবং ধর্মীয় নিয়ম নিতী মেনে সর্বোচ্চ পর্যায়ে কর্ম সংস্থান করে দেয়।কেউ যদি বিনা কারনে অলসতা করে কাজ না করে, তবে ঐ কাজ করে সে যে পরিমান পেমেন্ট পেত, তত টাকা জরিমানা দিতে হবে।এবং দেশের উন্নয়নে ও সকল প্রকার সমস্যা সমাধানে প্রত্যেক নাগরিকের মোট সম্পদের নির্দিষ্ট হারে কর তোলা হতো।যদি দেশের কোন নাগরীক অযথা অপচয় করতো, তাহলে তাকে অধিক জরিমানা সহ জেল দেওয়া হতো।এমন কেউ যদি দ্বিতীয় বার একই ভাবে অপচয় করতো,তহলে তাকে সর্বস্ব কেরে নিয়ে ফকিরও বানিয়ে দেওয়া হতো।


এছাড়া যদি কো ধনি ব্যক্তির বাড়ির আসে পাশে কোন দরিদ্র বস্ত্র,বাসস্থান, চিকিৎসা ইত্যাদি সমস্যায় ভুগতে থাকে আর ঐ ধনি লোকটা তাকে সাহায্য না করে তবে ধনি লোকটার বিরোদ্ধে সরকারী ভাবে মামলা হতো।


এছাড়া কেউ যদি কোনো কারন ছারাই অন্যায় ভবে দেশদ্রোহী করে তবে তাকে সর্চ্চো সাজা হিসেবে "ফিরবেনা" কারা গারে নিক্ষেপ করা হতো।দেশের সম্পদ নষ্ট বা অন্যায় ভাবে কেউ যদি নেয়, তবে তাকে উচ্চ জরিমানা সহ জেল দেওয়া হতো।


দেশের সকল ব্যবসায়ী ও বেচা-কেনায় কেউ যদি দূর্নীতি করে এবং সরকার অনঅনুমোদিত কাজ করে তবে তাকে তার মোট সম্পদের উপর নির্ভর করে উচ্চ জরিমানা ও জেল দেওয়া হতো।


দেশেই তৈরা করা হলো এমন কি উন্নত প্রযুক্তি যা ধারা পরিবেশ পরিষ্কার রাখা যাবে।সারা দেশে বর্জের সু পরিকল্পিত ভাবে সংরক্ষন ও বাছাই করে পুনরায় ব্যবহার করা হতো।দেশে অসংখ্য গাছ লাগিয়ে সম্পূর্ন সবুজ দেশ হয়ে যায়।দেশে অপরিকল্পত ঘর নির্মান নিসিদ্ধ করা হলো।


এভাবে দেশের প্রত্যেকটা কাজে সরকারী সঠিক নিয়ম প্রনয়ন করা হলো।এবং বিশ্বের সবচেয়ে সুখি ও কঠোর আইনের দেশ হিসেবে সুপরিচিত লাভ করেছিল।বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে হাজারো পর্যটক  আসতো বংলাদেশের সুন্দর্য ও ইতিহাস জানতে।এবং  বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশকে অনুসরন করতে সুরু করলো।এভাবে একটি দেশে সুখ শান্তি ফিরে এলো।এরই মাঝে ছেলেটির ঘুম ভাঙ্গলো।সে মনে মনে ভাবতে থাকলো যদি  সত্যিই দেশটি এমন হতো।

Post a Comment

0Comments
Post a Comment (0)