রক্তচাপ ( Blood Pressure )
![]() |
| রক্তচাপ |
রক্তপ্রবাহের সময় ধমনির গায়ে যে চাপ সৃষ্টি হয় , তাকে রক্তচাপ বলে । হৃৎপিণ্ডের সংকোচন বা সিস্টোল অবস্থায় ধর্মনির গায়ে রক্তচাপের মাত্রা সর্বাধিক থাকে । একে সিস্টোলিক চাপ ( Systolic Pressure ) বলে । হৃৎপিণ্ডের ( প্রকৃতপক্ষে নিলয়ের ) প্রসারণ বা ডায়াস্টোল অবস্থায় রক্তচাপ সবচেয়ে কম থাকে । একে ডায়াস্টোলিক চাপ ( Diastolic Pressure ) বলে ।
আদর্শ রক্তচাপ :
চিকিৎসকদের মতে , পরিণত বয়সে একজন মানুষের আদর্শ রক্তচাপ ( Blood pressure ) সাধারণত 120/80 মিলিমিটার মানের কাছাকাছি । রক্তচাপকে দুটি সংখ্যায় উল্লেখ করা হয় । প্রথমটি উচ্চমান এবং দ্বিতীয়টি নিম্নমান । রক্তের উচ্চ চাপকে সিস্টোলিক ( Systolic ) চাপ বলে যার আদর্শ মান 120 মিলিমিটারের নিচে । নিম্নচাপকে ডায়াস্টোলিক ( Diastolic ) চাপ বলে । এই চাপটির আদর্শ মান ৪০ মিলিমিটারের নিচে । এই চাপটি হৃৎপিণ্ডের দুটি বিটের মাঝামাঝি সময় রক্তনালিতে সৃষ্টি হয় । দুধরনের রক্তচাপের পার্থক্যকে ধর্মনিঘাত বা নাড়িঘাত চাপ ( Pulse pressure ) বলা হয় । সাধারণত সুস্থ ;
অবস্থায় হাতের কব্জিতে রেট তথা হৎস্পন্দনের মান প্রতি মিনিটে 60-100 । হাতের কব্জিতে হালকা করে চাপ দিয়ে ধরে পালস রেট বের করা যায় । স্ফিগমোম্যানোমিটার ( Sphygmomanometer ) বা সংক্ষেপে বিপি যন্ত্রের সাহায্যে রক্তচাপ মাপা যায় । এই যন্ত্র দিয়ে ডায়াস্টোলিক ও সিস্টোলিক চাপ দেখে । রক্তচাপ নির্ণয় করা যায় ।
উচ্চ রক্তচাপ ( High blood pressure or hypertension )
উচ্চ রক্তচাপকে নীরব ঘাতক হিসেবে গণ্য করা হয় । সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্টে বলা হয়েছে 2020 সালের মধ্যে স্ট্রোক ও করোনারি ধমনির রোগ হবে বিশ্বের এক নম্বর মরণব্যাধি এবং দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে এর প্রকোপ ছড়িয়ে পড়বে মহামারী আকারে । হৃদ্রোগ এবং স্ট্রোকের অন্যতম প্রধান কারণ হলো উচ্চ রক্তচাপ । উচ্চ রক্তচাপ কী ? রক্ত চলাচলের সময় রক্তনালিগাত্রে যে চাপ সৃষ্টি হয় , তাকে রক্তচাপ বলে । আর স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি রক্তচাপকে উচ্চ রক্তচাপ বলা হয় । একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের ক্ষেত্রে সাধারণত সিস্টোলিক চাপ 120 মিলিমিটার পারদের নিচে এবং ডায়াস্টোলিক চাপ ৪০ মিলিমিটার পারদের নিচের মাত্রাকে কাঙ্ক্ষিত মাত্রা হিসেবে ধরা হয় । আর এই রক্তচাপ যখন মাত্রাতিরিক্ত হয় তখনই আমরা তাকে উচ্চ রক্তচাপ বলে থাকি ।
উচ্চ রক্তচাপ ঝুঁকির কারণ :
বাবা বা মায়ের উচ্চ রক্তচাপ থাকলে তার সন্তানদের উচ্চ রক্তচাপ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে । এছাড়াও যারা স্নায়বিক চাপে ( Tension ) বেশি ভোগেন অথবা ধূমপানের অভ্যাস হছে , তাদের উচ্চ রক্তচাপ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয় । দেহের ওজন বেশি বেড়ে গেলে কিংবা লবণ এবং চর্বিযুক্ত খাদ্য বেশি খেলে এমনকি পরিবারের সদস্যদের ডায়াবেটিস বা কোলেস্টেরলের পূর্ব ইতিহাস থাকলে উচ্চ রক্তচাপ দেখা দেয় । সন্তান প্রসবের সময় খিঁচুনি রোগের ( Eclampsia ) কারণে মায়ের রক্তচাপ বৃদ্ধি পেতে পারে ।
রক্তচাপের লক্ষণ :
মাথাব্যথা , বিশেষ করে মাথার পেছন দিকে ব্যথা করা উচ্চ রক্তচাপের প্রাথমিক সক্ষণ । এছাড়া রোগীর মাথা ঘোরা , ঘাড় ব্যথা করা , বুক ধড়ফড় করা ও দুর্বল বোধ করাও উচ্চরক্তচাপের লক্ষণ । অনেক সময় রোগীর নাক দিয়ে রক্ত পড়ে । উচ্চ রক্তচাপের রোগীর ভালো ঘুম হয় না এবং অল্প পরিশ্রমে তারা হাঁপিয়ে ওঠে । ভয়ের ব্যাপার হলো , প্রায় 50 % ক্ষেত্রে উচ্চ রক্তচাপ হলে কোনো লক্ষণ প্রকাশ পায় না । তখন স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাক হয়ে যায় কিছু বুঝে ওঠার আগেই ।
রক্তচাপ নির্ণয় করা :
রক্তচাপ মাপক যন্ত্র বা বিপি যন্ত্র দিয়ে রক্তচাপ মাপা হয় । রক্তচাপ মাপার শুরুতে রোগীকে কয়েক মিনিট নিরিবিলি পরিবেশে শান্তভাবে সোজা হয়ে শুয়ে থাকতে হবে । কমপক্ষে 15 থেকে 20 মিনিটের ব্যবধান রেখে রক্তচাপ নির্ণয় করা ভালো ।
উচ্চ রক্তচাপের প্রতিকার :
উচ্চ রক্তচাপের প্রতিকারে টাটকা ফল এবং শাক - সবজি খাওয়ার অভ্যাস করা উচিত । দেহের ওজন নিয়ন্ত্রণে রেখে শারীরিক পরিশ্রম করা বা ব্যায়াম করা প্রয়োজন । চর্বিজাতীয় খাদ্য গ্রহণ থেকে বিরত থাকা ছাড়াও খাবারের সময় অতিরিক্ত লবণ ( কাঁচা লবণ ) খাওয়া উচিত নয় । ধূমপান ত্যাগ করা জরুরি । উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে না থাকলে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ ঘটতে পারে , যা স্ট্রোক নামে পরিচিত ।
কর্মতৎপরতা , স্বাস্থ্য , বয়স এবং রোগের কারণে মানুষের রক্তচাপের মাত্রা কমবেশি হতে পারে । মোটা লোকদের ওজন কমানো , চর্বিজাতীয় খাদ্য কম খাওয়া , খাবারে কম লবণ দেওয়া ইত্যাদি নিয়ম মেনে চললে উচ্চ রক্তচাপ এড়ানো যায় । রক্তচাপ খুব বেশি হলে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ঔষধ সেবন করা উচিত ।

