আমাজন বনে গুপ্তধন উদ্ধার করতে যেয়ে যা দেখলো তারা! সুনলে আতকে উঠবেন

0

 



আমাজন বনেই না আছে হাজারো গুপ্তধন ।সেখানে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের সব মনি, মুক্তা , হিরা ,পান্না, সোনা ,রোপা ইত্যাদি।এরকম কথাই সুনা যায় আমাজনের সকল বাসিন্দার মুক থেকে।তারা পুরুপরি বিস্বাস করে আমাজনে প্রচুর গুপ্তধন আছে।অনেকেই নাকি সেগুলোর দেখাও পেয়েছিল।সত্যিই কি আমাজনে ধন সম্পদ আছে নাকি সব ভুয়া কথা, এই সব বিষয়ে জানতে পারবেন আজকের এই পোষ্টে।



পৃথীবির সবচেয়ে বড় বন হলো আমাজন বন।আমাজন বনটি দক্ষিন আমেরিকায় অবস্থিত।প্রায় ৭০ লক্ষ বর্গকিলোমিটার অববাহিকা পরিবেষ্টিত এই অরণ্যের প্রায় ৫৫ লক্ষ বর্গ কিলোমিটার এলাকাটি মূলত আর্দ্র জলবায়ু দ্বারা প্রভাবিত। ৯ টি দেশ জুড়ে এই অরণ্য বিস্তৃত। আমাজন অরণ্য ৬০% রয়েছে ব্রাজিলে, ১৩% রয়েছে পেরুতে এবং বাকি অংশ রয়েছে কলম্বিয়া, ভেনেজুয়েলা, ইকুয়েডর, বলিভিয়া, গায়ানা, সুরিনাম ও ফরাসি গায়ানা। পৃথিবী জুড়ে যে রেইনফরেস্ট তার অর্ধেক টাই এই অরণ্য নিজেই। নানা রকম প্রজাতির বাসস্থান হিসেবে সমৃদ্ধ এই আমাজন।এই বনে প্রায় ৩৯০ বিলিয়ন বৃক্ষ রয়েছে যেগুলো প্রায় ১৬০০০ প্রজাতিতে বিভক্ত। 




আর বিশালতার ধারের কাছেও মানুষ ঘেষতে সক্ষম না।সেখানে গুপ্তধন তো থাকতেই পারে এটাই স্বাভাবিক।এক সমিক্ষায় দেখা যায় আমাজনের মাত্র ১০% এলাকা আবিষ্কৃত বা মানুষ প্রবেশ করতে পেরেছে। আর বাকি ৯০% জায়গায়ই মানুষ প্রবেশ করতে পারেনি।তো সেখানে ঠিক কি কি থাকতে সে সম্পর্কে মানুষ ধারনাও করতে পারে না।আর এরকম বন নিয়েই রয়েছে হাজারো আজব গল্প কাহিনি।সেই কাহিনী বলে শেষ করা যাবে না ।তাই আর ঐ দিকে যাব না।তবে এখান থেকে ছোট একটি আজব ও ভয়ংকর গল্প বলবো।


গল্পের ১ম অংশ


এই ভয়ঙ্কর জঙ্গলে বসবাস করে হাজারো জাতি এবং লক্ষ লক্ষ মানুষ।সেখানকার আদিভাষিরা বিশ্বাস করেন এই বনে অবস্যই গুপ্তধন রয়েছে।সুধু তাই না , তারা দাবি করেন তাদের মাঝে অনেকেই গুপ্তধনের সন্ধান জানে এবং অনেকেই উদ্ধারের প্রচেষ্টায় তাদের জীবনও হারিয়েছে।আদিভাষিদের মাঝে এক বৃদ্ধ ও জ্ঞানি লোক বলেন, এই আমাজনে হাজারো গুপ্তধন রয়েছে।তার মধ্যে আমার বাবা সাতটি গুপ্তধনের সন্ধান করতে পেরেছিল।কিন্তু সে কোনোটাতেই গুপ্তধন উদ্ধার করতে যায় নি ।এবং আমাকেউ যেতে দেয়নি।কারন সেইগুলোতে অনেক বিপদ রয়েছে।যেমন: 


প্রথমত সেখানে  বিভিন্ন প্রাকৃতিক বিপদ রয়েছে।তার মধ্যে পাথরের চাপ,প্রানি খ্যাপক পাথর,প্রানি খ্যাপক গাছ ও গাছের সিকর,এবং কর্দমাক্ত মাটি(যে মাটি চুরা বালির মত ) ।


দ্বিতীয়ত সেখানে রয়েছে বিভিন্ন ভয়ঙ্কর প্রানি ।তারমধ্যে বিশাল বড় সাপ,বাঘ,সিংহ,হাতি এবং নাম না জানা হাজারো ভয়ঙ্কর প্রানি।


তিত্বীয়ত সেখানে রয়েছে গুপ্তধন পাহাড়াদার জিন ভুত এবং গুপ্তধনের রানী।যার ক্ষমতার কোন তুলনা হয় না।


গুপ্তধনের কথা সুনলে যদিও লোভ হতো, তবে এই সব বিপদের কথা সুনলে ভয়ে সরীর কেপে উঠতো।তাও ভাবতাম যাই হক গুপ্তধন উদ্ধার করতে আমি একদিন যাবই।এবং অনেকবার যাওয়ার চেষ্টাও করেছিলাম ।কিন্তু  আমার বাবার কারনে যেতে পারিনি।এভাবে অনেকদিন কেটে গেল।হঠাৎ একদিন বাবা মারা গেল।আমরা সবাই ভেঙ্গে পরলাম।তারপর ধিরে ধিরে সব ঠিক হয়ে গেল।তখন হঠাত গুপ্তধনের কথা আমার মনে পড়লো।ভাবলাম এখন তো আর বাবা নেই ।তাহলে তো গুপ্তধন উদ্ধারে যেতেই পারি।যদিও আমার পরিবার অনেক চিন্তিত থাকবে।তবে তারা আমাকে বাধা দিতে পারবেনা।পরে আবার রাতে সুয়েসুয়ে ভাবলাম যাবো ঠিক আছে তো এত দূরে ও ভয়ঙ্কর একটি জায়গায় কি আর একা যাওয়া সম্ভব।গতবার তো আমার সমবয়সিদের কে বলেছিলাম তারা কেউ যেতে চায়নি ।এবার বললে কি আর যাবে।এই ভেবে গুমিয়ে পরলাম।


সকালে অর্ধ ঘুমে সুনতে পেলাম কেউ আমাকে ডাকছে।জেগে দেখলাম আমার সমবয়সি বন্ধুদের আট জন এসেছে।বুজতে পারলাম না কেন।তারপর জিজ্ঞাস করায় তারা বললো গুপ্তধন উদ্ধারে যাওয়ার জন্য আমাকে অনুরোধ করলো।আমি বিশ্বাস করতে পারছিলাম না।আমি বললাম গুপ্তধন উদ্ধারে যেয়ে আমাদের ফিরে আসার সম্ভাবনা ০% ।অবশ্যই আমরা মরে যেতে পারি।ঐখান থেকে বেচে ফিরতে পারতাম না।আমার বন্ধুরা বললো প্রয়োজনে জীবন দিব, তবুও গুপ্তধন উদ্ধারে আমরা সবাই জেতে রাজি আছি।


আমি বললাম তাহলে ঠিক আছে।তো সবাই প্রস্তুত হও আমরা আগামি সপ্তাহেই রও না হব।আমি বললাম, আমার বাবা তো সাতটি গুপ্তধনের খোজ জানতো সেই বেপারে আমাকেউ সবকিছু বলেছিল ।তার মধ্যে সবচেয়ে কাছের টায় আমরা যাব।সবাই প্রস্তুত থেকো।


যেমন কথা তেমন কাজ ।তারপরের সপ্তাহেই গুপ্তধের উদ্যেশ্যে রওনা দিলাম।বাবার তৈরি ম্যাপ ও তার নির্দেশ মোতাবেগ চলতে লাগলাম।পথে হাজারো বিপদকে পেছনে ফেলে দীর্ঘ তিন মাসপর সেখানে পোছালাম।তবে দুঃখের বিষয় হল বাবার দেখানো ম্যাপের একবারে  শেষ মাথায় এসেও কোনো গুপ্তধনের খুজপেলাম না।তখন খুব খারাপ লাগল।মন চাইলো আত্য হত্যা করি।এরপর রাত্রে সুয়ে আছি এরকম সময়  হঠাত মনে পড়লো বাবা বলেছিল গুপধনের হদিস লুকানো অবস্থায় রয়েছে।


তারপরের দিন সকাল থেকেই নিখুত ভাবে আসেপাশে খুজতে থাকলাম।অবসেসে তিনদিন খোজার পর একটি ছোট গুহা খুজে পেলাম ভাবলাম হয়তো এখানেই গুপ্তধন আছে।জানতাম গুপ্তধনের কাছে বিপদ আপদ আছে।তাই সবাই একে অপরের হাত ধরে একসাথে ধিরে ধিরে আগাতে থাকলাম।যখন গুহার কাছাকাছি গেলাম তখন দেখলাম গুহার শেষ পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে।সেখানে কিছুই নেই।তবুও বললাম চলো গুহার ভিতর পর্যন্ত যাই।এরকম সময় অনুভব করলাম মাটি কাপছে।হঠাৎ কাপুনি এত বেড়ে গেল যে আর দারিয়েই থাকতে পারলাম না মাটিতে লুটিয়ে পরলাম।তখন সবাই সবার হাত শক্ত করে ধরলাম ।এরকম সময় আশেপাশের সকল গাছপালা ও গুহাসমেদ সবকিছু মাটির নিচের দিকে মাটির অনেক  গভিরে তলিয়ে গেলাম।


তখন সবকিছু একটু শান্ত হতে থাকল।এবং এক সময় পুরোপুরি স্তব্দ হয়ে গেল।তখন দেখলাম আমার সামনে আর সেই বন জঙ্গল নেই।মনে হচ্ছে বিশাল একপাহাড়।তাও আবার এখন তৈরি হয়েছে।ধিরে ধিরে উপরের দিকে তাকিয়ে পাহড়ের শেষ সিমানাটা দেখার চেষ্টা করলাম কিন্তু পাহাড়ের শেষ সীমা পর্যন্ত দৃষ্টি শক্তির সিমাবদ্ধতার করনে দেখতে পালাম না।এত উচু পাহাড়ের দিকে তাকিয়ে আমার মাথাটা একটা চক্কর মারলো।আমি বসে পরলাম।


তারপর পিছন ফিরে দেখি বিশাল এক গুহা।গুহার কথা মনে হতেই মনে হলো আমার তো আমার তো আরো আট জন বন্ধু আছে তারা কোথায়।তারপর একে একে তাদের কে খুজে বের করলাম।তবে একজনকে পেলাম না।তখন সবাই মিলে তাকে খুজলাম।এবং অবশেষে ফিরে পেলাম।কিন্তু সম্পূর্ন মানুষ নয়! তাকে চিত করে সুয়িয়ে রাখা হয়েছিল।তার মাথা টা আছে! শরীরটা আছে! কিন্তু গলা বা দোর টা নেই ।দেখে মনে হচ্ছে তার ঘাড়টা ভেঙ্গে দোর সহ পেটের নারি বুরি টেনে বের করা হয়েছে।এবং ঘার থেকে মাথাটা ছিরে ফেলে গেছে।


এই সব দেখে সবার মনের ভিতর একটা ভয় ডুকে গেল। মন চাই ছিল দৌরে বাড়ি চলে যাই।কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো আমরা মাটির গভিরে আটকে গিয়েছিলাম।আমাদের কিছু করার ছিল না।কখনো মনে হতো এখানে হয়তো মরার অপেক্ষায় ই আছি।তবে সুধু জানি না কিভাবে মৃত্যু আসবে।


তারপর সবাই মিলে  বসে চিন্তা ভাবনা করে মনোবল বাড়ালাম।আমি বললাম, আমরা বাচি আর মরি জীবনের শেষ পর্যন্ত লড়াই করেই যাব ।কেই পিছু পা হব না।এই বলে শপথ করলাম।


তারপর সেই বিশাল গুহায় ডুকে পরলাম।সেখানে অন্ধকারে কিছু দেখা যাচ্ছে না।ঝাপসা ঝাপসা দেখলাম গুহায় একটা মসাল দেখা যাচ্ছে।আমি এগিয়ে গিয়ে মসালটি হাতে নিতেই মসালে আগুন ধরে গেল।সবাই অবাক হলাম।


আরও পরুন

আমাজন বনে গুপ্তধন উদ্ধার করতে যেয়ে যা দেখলো ! পর্ব ২


আজ এপর্যন্তই।কেননা গল্পটা অনেকটা বড় তাই আজকে আর লিখতে পারছি না।গল্পের ২য় অংশ পড়তে এখানে ক্লিক করুন



Post a Comment

0Comments
Post a Comment (0)