কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করতে হয় ১০০% সঠিক ও সহজ উপায় পর্ব-১

0
ফ্রিল্যান্সিং করে টাকা আয় করার উপায়




বর্তমানে আমরা অনেকেই  ফ্রিল্যান্সিং এর কথা সুনেছি।অনেকেই নতুন করে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করতে চাচ্ছেন তাদের ক্ষেত্রে প্রথমেই একটি ব্যাপার মাথায় আসে আর সেটা হলো ফ্রিল্যান্সিং শুরু করবো কিভাবে?  আমাদের দেশের বেশির ভাগ মানুষের ফ্রিল্যন্সিং নিয়ে এখনও পর্যাপ্ত ধারণা নেই। আর তাই তারা বিশ্বাস করতে পারেন না যে, ঘরে বসে সত্যিই অনলাইন থেকে ইনকাম  করা সম্ভব।তবে এটা মানতেই হবে যে , বর্তমানে বাংলাদেশের অনেক মানুষ   ফ্রিল্যান্সিং করে ঘরে বসে ইনকাম করছে।তো আমাদেরকে এটা মানতেই হবে যে, ফ্রিল্যান্সিং করেও উপার্জন করা যায়।এমনকি এই উপার্জন সাধারন যেকোন ১০ টা চাকরির থেকে কোনো অংশে কম নয়। আর এই কারনেই বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিং কে অনেকেই পেশা হিশেবে নিচ্ছে।এবং অনেকেই নতুন করে ফ্রিল্যান্সিং  সুরু করতে চাচ্ছে।


তবে ফ্রিল্যান্সিং আমাদের কাছে একদমি নতুন মনে হয়।এবিষয়ে আমরা অনেকেই কিছুই জানি না।যার কারনে আমরা বোজতে পারিনা কিভাবে কি করবো।কোথা থেকে সুুরু করবো কিভাবে সুরু করবো ইত্যাদি প্রশ্নের সম্মুখিন হই।আর তাই আমরা এই ব্লগে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার খুঁটিনাটি বিষয় গুলো নিয়ে আলোচনা করব।এমন কি আপনি যদি এমনও হন যে, ফ্রিল্যান্সিং কথাটি আজ প্রথম সুনছেন তাহলেও সব কিছু বোজতে পারবেন।আমি চেষ্টা করবো একজন সাধারন মানুষও যেন আমাদেরকে ফলো করে প্রফে সনাল ফ্রিল্যান্সার হতে পারে।আমরা এ ব্লগে ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে A-Z সমস্ত কিছু ধিরে ধিরে বলবো।


ফ্রিল্যান্সিং বিষয়টা যেমন বড় তেমনি এবিষয়ে লিখতে গেলেও অনেক বড় হয়ে যাবে।আর আমাদের মস্তিস্কে একবারে বেশি চাপ পরলে সব কিছু গুলিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।তাছাড়া আমার এই লেখা গুলো পড়ে যদি আপনারা কিছু বোজতেই না পারেন ।তাহলে আমার ও আপনার সকল পরিশ্রমি বিথা হয়ে যাবে।তাই আমি চেষ্টা করবো সব কিছু সুন্দর করে লেখার।আর এজন্য আমি কয়েকটি পর্বে পুরো ফ্রিল্যান্সিং বিষয়ে আলোচনা করবো।


ফ্রিল্যান্সিং যেমন সহজ তেমন কঠিন।বিষয়টা একটা উদাহরনের সাহায্যে বুঝিয়ে দিচ্ছে।মনে করেন, একজন লোক, তাকে সর্বমোট ১০০ টন পাথর এক জায়গা থেকে ১ কিলোমিটার দূরে নিতে হবে।এখন সে যদি বলে সবগুলো পাথর আমি একবারেই নিয়ে যাবো! সে কি নিতে পারবে? অবস্যই না । আবার সে যদি বলে আমি প্রতিদিন ১০০ কেজি করে পাথর নিতে থাকবো যে পর্যন্ত না শেষ হয়।তাহলে সে অবস্যই একসময় নিতে সক্ষম হবে।ফ্রিল্যান্সিং টাও ঠিক এমনি ।আপনার বোঝা যত বড়ই হক না কেন? আপনি ইচ্ছা করলে ধিরে ধিরে বহন করতে পারবেন। তো এর জন্য প্রচুর ধর্য , ইচ্ছা ও পরিশ্রম করতে হবে। তবেই আপনি সফল হতে পারবেন।আপনি যেই কোয়ালিটির বা আপনার মেধা যত কমিই থাকুক ,আপনার মাঝে যদি প্রচুর ধর্য , ইচ্ছা ও পরিশ্রমী হয়ে থাকেন তাহলে আপনিও অবস্যই সফল হতে পারবেন। এই তিনটা গুন যদি আপনার থাকে তাহলে ফ্রিল্যান্সিং শিখাটা আপনার জন্য অনেক সহজ হয়ে যাবে।




আজকের পর্বে বলবো ফ্রিল্যান্সিং এর ধারনা , কিভাবে সুরু করবেন, ফ্রিল্যান্সিং এর জন্য কিভাবে প্রস্তুতি নিবেন ইত্যাদি।তো আর কথা না বাড়িয়ে চলুন সুরু করা যাক।


১।  ফ্রিল্যান্সিং কি? বা কাকে বলে? 


ফ্রিল্যান্স অর্থ হলো মুক্তপেশা।মানে যেই পেশায় কোন ধরা বান্দা নিয়ম নেই।যেখানে কেউ আপনাকে কাজের জন্য চাপ সৃষ্টি করবে না।আপনার যখন মন খুসি কাজ করবেন।আবার আপনার কাজ করতে মন চাচ্ছে না, কাজ  করবেন না! কেউ আপনাকে কাজ করতে বলবে না।এক কথায় আপনার মনের খুসি অনুযায়ি কাজ করবেন।বাস্তব জীবনে এমন পেশা আপনি বিশ্বের কোথাও খুজে পাবেন না।


২।  ফ্রিল্যান্সিং কেন করব ? 


আমরা ফ্রিল্যান্সিং কেন করব ?  প্রশ্নটা খুবই  গুরুত্বপূর্নো।কেননা আপনি ভাবছেন ফ্রিল্যান্সিং করবো কিন্তু এটাই যদি না যানেন ফ্রিল্যান্সিং কেন করব,তাহলে তো চলবে না। আমার মতে কেউ সখের বসে ফ্রিল্যান্সিং কখনই করবে না।কেননা এটা এতটা সখের কাজ না ।বিশেষ করে নতুন অবস্থায়।কারন হলো নতুন অবস্থায় ফ্রিল্যান্সিং সিখাটা অনেকটা কষ্ট সাধ্য।তবে চিন্তার কারন নেই যেকেও চেষ্টা করলেই একজন ফ্রিল্যান্সার হতে পারবে।তো বোজতেই পারছেন , যারা বাড়িতে বসে মনের ইচ্ছামতো কাজ করতে চান এবং মাস শেষে মুটা অংকের টাকা ইনকাম করতে চান তাদের জন্যই ফ্রিল্যান্সিং।আপনি যদি পেশা হিসেবে এমন একটি কাজ করতে চান তাহলে সুরু করতে পারেন ফ্রিল্যান্সিং।ফ্রিল্যান্সিং করার মূল কারন হতে পারে, নিজের মনের ইচ্ছামতো কাজ করে জীবন জাপন করা।


৩। Freelancing শুরু করার জন্য কি কি প্রয়োজন?


ফ্রিল্যান্সিং সুরু করতে বিশেষ কিছুর প্রয়োজন হবে না।সাধারন কয়েকটি জিনিসের প্রয়োজন হবে তাহলো:


১। ডেস্কটপ বা কম্পিউটার।

২। ইন্টারনেট কানেকশন।

৩। বাংলা ও English এ পর্যাপ্ত দক্ষতা।

৪। কাজের প্রতি প্রচুর আগ্রহ।

৫। ফ্রিল্যান্সিং এ অভিজ্ঞ না হলে, ফ্রিল্যান্সিং এ ট্রেনিং বা শিখতে হবে।

৬। প্রচুর ধর্য ও পরিশ্রমি হতে হবে।


৪। কিভাবে ফ্রীল্যান্সিং শুরু করবো?


ফ্রীল্যান্সিং শুরু করার জন্য প্রথমে আপনাকে ফ্রীল্যান্সিং এর কাজ শিখতে হবে।ফ্রীল্যান্সিং কাজের কয়েকটি সেক্টর রয়েছে। মার্কেটপ্লেসে চাহিদা আছে এমন কয়েকটি সেক্টর হলোঃ


১।  Web Development – ওয়েব ডেভেলপমেন্ট

২।  Graphics Design – গ্রাফিক্স ডিজাইন

৩।  SEO – এসইও

৪।  Digital Marketing – ডিজিটাল মার্কেটিং

৫। Facebook Marketing – ফেসবুক মার্কেটিং

৬।  Affiliate Marketing – এফিলিয়েট মার্কেটিং

৭। CPA marketing – সিপিএ মার্কেটিং

৮। Content writing – কন্টেন্ট রাইটিং

৯। Video editing – ভিডিও এডিটিং

১০। Data Entry – ডাটা এন্ট্রি

১১।  Virtual assistant – ভার্চুয়াল এসিস্টেন্ট, ইত্যাদি


এই সেক্টর গুলো থেকে আপনাকে নির্দিষ্ট একটি বা একাদিক কাজ বেছে নিতে হবে।এই সেক্টর গুলো থেকে আপনি ঐ কাজটিই বেছে নিবেন যেটা আপনার  পছন্দের বা সখের কাজ হবে সেটা।তারপর ঐ নির্দিষ্ট কাজটা আপনাকে শিখতে হবে।ফ্রীল্যান্সিং এর কাজ শিখার জন্য আপনি আপনার নিকটস্থ প্রশিক্ষন কেন্দ্র থেকে প্রশিক্ষন নিতে পারেন।অথবা অনলাইন কোর্স করে শিখে নিতে পারেন।তাছাড়া অনলাইনে বিভিন্ন ভিডিও রয়েছে সেগুলো দেখে দেখে শিখতে পারেন।তবে এটা একটু কষ্ট সাধ্য হতে পারে।কাজ শিখার পর বিভিন্ন প্ল্যাট ফর্মে একাউন্ট তৈরি করতে হবে তারপর সেখানে কোন কাজ এলে সেটা করতে হবে।এবিষয়ে অন্য একটি পোষ্টে আমি বলবো।এখন আবাতত কাজ শিখে ফেলুন।



৫। ফ্রীল্যান্সিং করে কত টাকা ইনকাম করা যায়?


ফ্রীল্যান্সিং করে টাকা ইনকাম করার কোন লিমিট নেই । অনেক ফ্রীল্যান্সার রয়েছে যারা প্রতি মাসে কোটি কোটি টাকা ইনকাম করে।একজন নতুন ফ্রিল্যান্সার যদি মোটা মোটি কাজ করে তাহলে মাসে ৩০,০০০ থেকে ৩০০,০০০ টাকা পর্যন্ত ইনকাম করতে পারবে।এই তথ্য গুলো ভিবিন্ন ফ্রীল্যান্সারের আয়ের উপর ডিপেন্ড করে বলা হয়েছে।তবে আপনার ইনকাম সুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত অনেক পরিশ্রম করতে হবে।এবং আপনি প্রথম অবস্থায় কম পরিমানে কাজ পাবেন এবং ইনকামও কম হবে।তবে আপনি যখন পূরাতন হয়ে যাবেন তখন ধিরে ধিরে কাজ বাড়বে এবং আপনার ইনকাও বাড়তে থাকবে। তাই ধর্য ধরে কাজ করে যেতে থাকেন সফলতা একদিন অবস্যই পাবেন।


Post a Comment

0Comments
Post a Comment (0)