![]() |
| মোটা হওয়ার উপায় |
স্বাস্থই সম্পদ।যার স্বাস্থ নেই তার সম্পদ নেই।অর্থাৎ সুস্বাস্থ সকল সুখের উৎস।কেননা আপনি যখন সম্পূর্ন সুস্থ থাকবেন তখন আপনার মন থাকবে ফ্রেশ, আর মন ফ্রেশ মানে সব ভালো।তখন আপনি যাই করুন না কেন সবই ভাল লাগবে।কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে আমরা সবাই সুসাস্থের অধিকারী না।এখানে সুস্বাস্থ বলতে কিন্তু মোটা বা চিকন অথবা স্বাভাবিক মোটা মানুষকে বুঝায় না।সুস্বাস্থ বলতে, এমন একটি অবস্থা , যেখানে সরীরে কোন প্রকার অসুখ থাকবে না।সরীর চিকন বা অতিরিক্ত মোটাও হবে না।স্বাভাবিক স্বাস্থ ও সম্পূর্ন সুস্থতাকেই সুস্বাস্থ বলা হয়।
আমাদের মাঝে অনেকেই আছেন যারা অনেক চিকন বা ওজন অনেক কম।তারা অনেক চেষ্টার পরেও ওজন বাড়াতে পারে না।অনেকেই আবার ভিবিন্ন টিপস ও ডাক্তারের পরামর্শ নিয়েও প্রাকৃতিক উপায়ে মোটা হতে চেষ্টা করেও ব্যার্থ হয়।অনেকে আবার মোটা হওয়ার বিভিন্ন ঔষধ খেয়েও মোটা হতে পারছেন না।অনেকেই মোটা হলেও কিছুদিন পর আবার স্বাস্থ কমে যায়।যদি প্রশ্ন করেন, এমন কোন উপায় আছে কি যাতে স্থায়ী ভাবে স্বাস্থবান হওয়া যায়? আমি বলবো অবস্যই আছে।সেই উপায়টা নিয়েই আজকে কথা বলবো।তো চলুন ধাপে ধাপে সেগুলো জেনে নেই।
১ম ধাপঃ
মোটা হতে হলে সবার প্রথমে আপনার লিভার ঠিক রাখতে হবে।আপনার যদি পায়খানায় গন্ডোগোল থাকে তাহলে সেটা আগে ঠিক করতে হবে।যখন পায়খানা স্বাভাবিক হবে তখন মোটা হওয়ার চিন্তা করতে হবে।
একজন মানুষের যখন স্বাভাবিকের চেয়ে ওজন কম থাকে , তখন বুজতে হবে তার সরীরে অবস্যই পুষ্টির অভাব রয়েছে।যদি পুষ্টির অভাব না ই থাকতো তাহলে স্বাস্থ অবস্যই ঠিক থাকতো।অতএব মোটা বা স্বাস্থবান হতে হলে পুষ্টির চাহিদা পুরন করতে হবে।
পুষ্টি মানুষের সরীরে কিভাবে কাজ করে?
প্রতিদিন আমাদের সরীরে যে পুষ্টির ক্ষয় হয়, তার চেয়ে কম পুষ্টি যখন আমরা খাই তখন, পুষ্টির অভাব থেকে যায়, যার ফলে সরীরের ওজন কমতে থাকে।আর যত টুকু পুষ্টির ক্ষয় হয়, ততটুকু পুষ্টি খাওয়া হলে ওজন ঠিক থাকে।আর পুষ্টির ক্ষয়ের চেয়ে বেশি পুষ্টি খাওয়া হলে ওজন বাড়তে থাকে।সুতরাং আপনি যদি ওজন বাড়াতে চান তাহলে আপনাকে বেশি করে পুষ্টিকর খাদ্য খেতে হবে।
এখন, সমস্যা হল, অনেকেই আছেন যাদের আর্থিক অবস্থা অতটা সচ্ছল না।যারফলে তারা ইচ্ছা করলেও পুষ্টিকর খাদ্য বেশি করে খেতে পারেন না।এখানে মোটা হওয়ার জন্য পুষ্টিকর খাদ্য বলতে আমিষ জাতীয় খাদ্যকে বোঝায়।মোটা হতে চাইলে অবস্যই আমিষ জাতীয় খাদ্য বেশি করে খেতে হবে।আমিষ জাতীয় খাদ্য হল, মাছ,মাংস,দুধ,ডিম,ডাল,ছিম বিচি, ইত্যাদি।তাই এই খাদ্য গুলো বেশি করে খেতে হবে।যারা আমিষ জাতীয় খাদ্য গুলো বেশি পরিমানে ক্ষেতে সক্ষম নয়, তাদের জন্য পুষ্টির চাহিদা পুরনের বিকল্প হিসেবে ক্ষেতে পারেন "বেক্সট্রাম গোল্ড" নামক ট্যাবলেট।তবে সুধু এই ঔষধের উপর নির্ভর করলে চলবে না।এর সাথে যতটা সম্ভব পুষ্টিকর ও আমিষ জাতীয় খাদ্য খেতে হবে।
আর যাদের আর্থিক অবসস্থা ভালো তারা "বেক্সট্রাম গোল্ড" না খাওয়াটাই ভালো।এর পরিবর্তে বেশি পরিমানে পুষ্টিকর ও আমিষ জাতীয় খাদ্য খাবেন।তবে যাদের স্বাস্থ একেবারেই দুর্বল ও পাতলা বা চিকন তারা "বেক্সট্রাম গোল্ড" খেতে পারেন।এবার চলুন "বেক্সট্রাম গোল্ড" এর সম্পর্কে বিস্তারিত যেনে নেই।
BEXTRAM Gold
![]() |
| BEXTRAM Gold |
বেক্সট্রাম গোল্ড ট্যাবলেট ভিটামিন এবং মিনারেল এর সমন্বয়ে তৈরি।এতে ৩২ প্রকারের মাল্টিভিটামিন এবং মাল্টিমিনারেল রয়েছে।একে বলা হয় ভিটামিন A-Z , তারমানে বেক্সট্রাম গোল্ডে সব ভিটামিন উপস্থিত।যার ফলে আপনার সরীরে সকল ভিটামিনের অভাব পুরনে সক্ষম বেক্সট্রাম গোল্ড, যদি তা সরীর শোষনে সক্ষম হয়।বেক্সট্রাম গোল্ড যখন আপনার সকল পুষ্টি চাহিদা পুরন ও ক্ষয়পুরন করবে, তখন আপনি যে বাড়তি খাদ্য খাবেন সেটা সরীরে মেদ হিসেবে জমা হবে, যা ওজন বাড়াবে।
উপাদান
বেক্সট্রাম গোল্ড এর ট্যাবলেট এ রয়েছে
ভিটামিন এ, সি,ডি , ই , কে , বি১,বি২ , বি৩ ,বি৬
এছাড়া , ফলিক এসিড ,বায়োটিন, পেনটোথেনেট , ক্যালসিয়াম , আয়রন, ফসফরাস , আয়োডিন , ম্যাগনেসিয়াম, জিংক , সেলেনিয়াম , কপার , ম্যাঙ্গানিজ , ক্রোমিয়াম , মলিবডেনাম , ক্লোরাইড , পটাশিয়াম , বোরন , নিকেল , সিলিকন , টিন , ভ্যানাডিয়াম, লুটেইন , সায়ানোকোবালামিন
বেক্সট্রাম গোল্ড এর কাজ
বেক্সট্রাম গোল্ড ট্যাবলেট মূলত শরীরের ভিটামিন এবং মিনারেল এর ঘাটতি পূরণে নির্দেশিত। তবে শরীরের দৈনন্দিন ভিটামিন এবং মিনারেলের সাপ্লেমেন্ট হিসেবেও এটি সেবন করা যায়। এতে প্রায় ৩২ টি উপাদান থাকায় শরীরের সাধারণ রোগ ব্যাধি যেমন- কম হজম ক্ষমতা, বার্ধক্য, গর্ভাবস্থা এবং স্তন্যদানকালে, ক্ষুধামন্দা, ডায়েট এর সময়কালে, অতিরিক্ত শারীরিক ব্যায়ামে, হাড়ের ক্ষয়, আঘাত বা ক্ষত, অস্ত্রোপচার, শারীরিক ও মানসিক চাপ, দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন রোগ, সংক্রমণ জনিত রোগ এবং শারীরিক দুর্বলতার চিকিৎসা নির্দেশিত হয়।
বেক্সট্রাম গোল্ড এর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া
এটি সাধারণত সহনশীল একটি ঔষধ হিসেবে পরিচিত। তবে যেহেতু এতে বিটা ক্যারোটিন রয়েছে সেক্ষেত্র মাঝে মাঝে ডায়রিয়া দেখা যেতে পারে। এছাড়াও ত্বকের রং হলদে কিংবা বিবর্ণ হওয়ার পাশাপাশি ভিটামিন সি ও ভিটামিন ই এর কারণে পরিপাকতন্ত্রের সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে।
বেক্সট্রাম গোল্ড দাম কত?
বেক্সট্রাম গোল্ড ট্যাবলেটের কৌটায় ৩০ টি ট্যাবলেট, যার মূল্য ২৮৫ টাকা দেওয়া হয়েছে।তবে বাজারে আপনি ২৫০ টাকায়ি পেয়ে যাবেন।তবে এর দাম অনির্দিষ্ট , এটা ১৫০-২৮৫ টাকায় বিক্রি হয়।যার কাছ থেকে যেমন রাখাতে পারে আরকি।তাই দরকষাকষি করে কিনতে পারেন।
২য় ধাপঃ
এছাড়া যাদের মুখে রুচি কম এবং লিভারের কর্যক্ষমতা কম বা বেশি পরিমান খেতে পারেন না।সামান্য খেলেই আর খুদা লাগে না তাদের জন্য , এই সব সমস্যার সমাধান হতে পারে ফওলামিন সিরাপটি। ফওলামিন সিরাপ একটি ইউনানী ঔষধ ।এটার কোন পার্শপ্রতিক্রীয়া নেই।এমন কি অনেক ডাক্টার এটাকে সমর্থন করে।ফওলামিন ঔষধটি সরীরের ওজন বাড়ানো বা মোটা হওয়ায় নির্দেশিত নয়।ফওলামিন সম্পূর্ন নিরাপদ।তবে ঔষধটি সেবনে আপনার মুখের রুচি অনেক বেড়ে যাবে এবং বেশি বেশি খুদা লাগবে , যার ফলে বেশি করে খেতে পারবেন।আর বেশি খেলে স্বাস্থ অবস্যই বাড়বে।
Faulamin Sharbat Faulad 450 ml Syrap
![]() |
| Faulamin Sharbat Faulad |
ফওলামিন এ সক্রিয় উপাদান হিসেবে রয়েছে
আরক বাদিয়ান, আরক গুলারে, হীরাকসীস ও অন্যান্য উপাদান ।
কার্যকারিতা
রক্তউৎপাদক , রক্তস্বল্পতা , রক্তে লৌহিত কণিকার অভাব , ক্ষুধামন্দা , যকৃতের দূর্বলতা ও ক্ষুধাবর্ধক ।
সেবন মাত্রা
২ চা চামচ করে দৈনিক ২-৩ বার আহারের পর অথবা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সেব্য ।
ফওলামিন এর দাম কত?
ফওলামিন সিরাপটির মূল্য ৩৫০ টাকা।তবে আপনি ৩০০ টাকায় কিনতে পারবেন।এটার দামও ২০০-৩৫০ এর মাঝে যেকোন দামে বিক্রি হতে পারে।
পাতলা পায় খানা থাকা কালে এই ঔষধ গুলো খাওয়া যাবে না।যাদের ভিটামিন ঔষধ সেবনে পেটে গন্ডোগোল হয় , তারা খাওয়ার আগে গ্যাসের ট্যাবলেট খেতে পারেন।গ্যাসের ট্যাবলেটের মধ্যে অনেক ভালো একটি হল পেনটোনিক্স( Pantonix 20 / Pantoprazole 20 mg)
৩য় ধাপঃ
আপনি অনেক চিকন বা ওজন অনেক কম, শত চেষ্টায়ও ওজন বাড়ছে না, তাহলে আপনার জন্য এই দুইটা ঔষধি যথেষ্ট নয়।এই ঔষধের পাশাপাশি বেশি করে পুষ্টিকর খাদ্য ক্ষেতে হবে।আমি যে ঔষধ দুটির কথা বলছি, সেটা খেয়ে আপনার এক ছটাক ওজনও বাড়বে না, যদি না আপনি বাড়তি খাদ্য খান।ঔষধ গুলো সুধু আপনার সারীরিক ক্ষয় পরুন ও লিভারের কার্যক্ষমতা বাড়াবে।আর কিছু না।মোটা হতে চাইলে আপনাকে নিজের চেষ্টায় তা গড়তে হবে।এর জন্য প্রচুর ধৈর্য ও প্ররিশ্রম করতে হবে।তবে অতটা কঠিন না।কেননা স্বাস্থ কমানোর চেয়ে শতগুন সহজ স্বাস্থ বাড়ানো।তাই একটু নিয়ম মেনে চললেই স্বাস্থবান হওয়া সম্ভব।
খাদ্যভ্যাসের পরিবর্তন করুন
আপনি আগে যে রকম খেতেন তার চেয়ে বেশি করে খাওয়ার চেষ্টা করুন।এবং খাদ্যে আমিষের পরিমান বাড়ান।বেশি বেশি ভাত খাওয়া বন্ধ করুন।অতিরিক্ত ভাত খেয়ে মোটা হওয়া সম্ভব না।উদাহরন হিসেবে, অনেকেই একবারেই ৫০০ গ্রাম বা ১০০০ গ্রাম চালের ভাত ক্ষেতে পারে,তাদের মধ্যে অনেকেই একদম চিকন।তাই সরকরা জাতীয় খাদ্য সিমিত খান।
মোটা হতে ডিম খেতে পারেন
মোটা হতে চাইলে প্রতিদিন কমপক্ষে ১টি করে ডিম খেতেই হবে।অথবা প্রতিদিন ২-৩ টি করে খেলে দ্রুত ওজন বাড়াতে পারেন।আপনি কি জানেন, স্বাস্থ কমানোর জন্য ডাক্তার রা খাওয়ার আগে ডিম খাওয়ার পরামর্শ দেয়।সুতরাও ডিম স্বাস্থ কমাতে বা বাড়াতে পারে।সঠিক ভাবে ডিম না খেলে আপনার স্বাস্থ নাও বাড়তে পারে।তাই আমি যেভাবে বলছি সেভাবে সবকিছু করতে থাকেন।
ডিম খাওয়ার নিয়ম কি?
প্রতিদিন একটা করে ডিম খেলে,অনেক ভুরে কিছু খেয়ে তারপর ডিম খাবেন।আর যারা দৈনিক ২-৩ টা খেতে চান, তারা দুপুরে খাওয়ার পর বা রাতে খাওয়ার পর অথাবা উভয় সময়ই খেতে পারেন।খাওয়ার আগে ডিম খাবেন না।কারনঃ ডিম অধিক ক্যালরি যুক্ত হওয়ায় সরীরের প্রয়োজনীয় ক্যালরির চাহিদা পুরন হয়ে যায়।যার ফলে আপনি ইচ্ছা করলেও অন্যান্য খাদ্য বেশি পরিমানে খেতে পারবেন না।
মোটা হতে ছোলা বুট খেতে পারেন
অধিক ক্যালরি যুক্ত একটি খাদ্য হল ছোলা বুট।স্বাস্থ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখতে পারে ছোলা বুট।তাই সকালে বা দিনের যেকোন সময় ছোলা বোট কমপক্ষে ৮ ঘন্টা ভিজিয়ে রেখে , তারপর কাচা বা সিদ্ধ করে খেতে পারেন।
মোটা হতে ডাউল খেতে পারেন
ডাউল আমিষ জাতীয় ও প্রচুর ক্যালরি যুক্ত খাদ্য।দ্রুত স্বাস্থ বাড়াতে ডাল কর্যকরী ভুমিকা রাখতে পারে।স্বল্প ক্ষরচে আমিষের একমাত্র উৎস হল ডাউল।অনেক প্রকার ডাউল আছে , তার মধ্যে মসুর ডাল সবচেয়ে ভালো।আপনি সপ্তাহে কমপক্ষে চার দিন খাদ্যে ডাউল রাখতে পারেন।
এছাড়া বেশি করে মাছ, মাংশ, দুধ, পনির , এবং সাক সবজি ইত্যাদি খাদ্য খেতে পারেন।তার পাশাপাশি আপনি হরলিক্স ও খেতে পারেন।হরলিক্সে যথেষ্ট পরিমান পুষ্টি রয়েছে।তবে হরলিক্স দুধ দিয়ে খাওয়াটাই উত্তম।
তো আপনি যদি এই দুটি ঔষধের( BEXTRAM Gold, Faulamin Sharbat) পাশাপাশি নিয়ম মেনে সবকিছু করতে পারেন তবে , ইনশাআল্লাহ আপনি ১০০% নিশ্চিত স্বাস্থবান বা মোটা হতে পারবেন।আর একটা কথা মাথায় রাখবেন, শীতকালে মানুষের ওজন ধিরে ধিরে বাড়ে।এবং গরমের সময় অনেক দ্রুত বাড়ে।



