![]() |
| জমি প্রস্তুতির গুরুত্ব |
ভূমি কর্ষণ জমি প্রস্তুতির প্রথম ধাপ । ভূমি কর্ষণের সংকীর্ণ অর্থ হলো ফসল ফলানোর উদ্দেশ্যে জমির মাটি যন্ত্রের সাহায্যে খুঁড়ে আলগা করা । কিন্তু ভূমি কর্ষণের সাথে নানা প্রযুক্তি জড়িত । যেমন , বীজকে অঙ্কুরোদগমের জন্য উপযুক্ত স্থানে ও সঠিক গভীরতায় স্থাপন করা , মাটিতে বায়ু চলাচলের সুবিধা সৃষ্টি করা , উপরের মাটি নিচে এবং নিচের মাটি উপরে নিয়ে আসা , মাটিতে অণুজীবের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করা ইত্যাদি । এসব দিক বিবেচনা করে জমি প্রস্তুতির গুরুত্ব উপলব্ধি করা যায় । আর এই গুরুত্ব অনুধাবনের জন্য ভূমি কর্ষণকে সংজ্ঞায়িত করা যায় যে “ শস্যের বীজ মাটিতে সুষ্ঠুভাবে বপন ও পরবর্তী পর্যায়ে চারাগাছ বৃদ্ধির জন্য মাটিকে যে প্রক্রিয়ায় খুঁড়ে বা আঁচড়ে আগাছামুক্ত , নরম , আলগা ও ঝুরঝুরা করা হয় তাকে ভূমি কর্ষণ বলে ” । ভূমি কর্ষণ জমি প্রস্তুতির প্রাথমিক ধাপ । আদিকাল থেকেই মানুষ ভূমি কর্ষণ তথা জমি প্রস্তুতির গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পেরেছেন । তাই তারা কাঠের বা পাথরের তৈরি সুচালো যন্ত্রের সাহায্যে মাটি আলগা ও নরম করে ফসলের বীজ বুনতে বা চারা রোপণ করতেন । ফসলভেদে ভূমি কর্ষণের তারতম্য হতে পারে কিন্তু এর গুরুত্ব কখনো খাটো করে দেখার বিষয় নয় ।
জমি প্রস্তুতির ক্ষেত্রে খনার বচনে উল্লেখ আছে যে ,
ষোল চাষে মুলা
তার অর্ধেকে তুলা
তার অর্ধেকে ধান
বিনা চাষে পান
অর্থাৎ মুলা চাষের জন্য ষোলটি চাষ দিতে হবে যতক্ষণ না মাটি ঝুরঝুরা বা আলগা হয় । তুলা চাষের জন্য আট চাষ দিতে হবে আর ধানের জন্য চারটি চাষই যথেষ্ট । মজার ব্যাপার হলো পান উৎপাদনে কোনো চাষই লাগেনা । আর এই ধারণা থেকেই আজকাল বিভিন্ন ফসল উৎপাদনে ‘ বিনা চাষ ' প্রথা প্রচলন করা হয়েছে । এখন অনেক কৃষকই বিনা চাষে ভুট্টা , ডাল ইত্যাদি ফসল উৎপাদন করেন ।

