হঠাৎ গলাচেপে আসলে করবেন কি?আন্চলিক ভাষায় যাকে গলা ফাস বলে।এরকম হঠাৎ গলা চেপে আসলে কি করবেন?এরকম সমস্যায় রোগী মারা পর্যন্ত যেতে পারে।রোগটি হলে স্বাস-প্রস্বাস বন্ধ হয়ে যেতে পারে।তাই এটাকে সাধারন ভাবে দেখা যাবে না। এই সমস্যা যে কারও হতে পারে, তাই এর সমাধান জেনে রাখা ভালো।
![]() |
| হঠাৎ গলা চেপে আসায় কথা বলা বন্ধ হয়। |
লক্ষন
সুস্থ বা অসুস্থ মানুষের হঠাৎ গলা চেপে আসা।কথা বন্ধ হয়ে যাওয়া বা কথা বলতে কষ্ট হওয়া।কলায় ব্যাথা হওয়া।স্বাস নিতে কষ্ট হওয়া ইত্যাদি লক্ষন প্রকাশ পেতে পারে।
কারন
অনেক কারনেই গলা চেপে আসতে পারে বা গলা ফাস হতে পারে।এক্ষেত্রে অনেকের গলায় সমস্যা থাকতে পারে।আবার অনেকের ক্যানসারের কারনেও গলা চেপে আসতে পারে।অনেকের আবার মুখে থাকা লালা গ্রন্থির সমস্যার কারনে গলাফাস হতে পারে।গলায় থাকা লালা গ্রন্থি থেকে পর্যাপ্ত লালা রস নির্গত না হলে এরকম সমস্যা হতে পারে।
প্রতিকার
গলায় সমস্যা বা হঠাৎ গলা চেপে আসা বা কথা বন্ধ হয়ে যাওয়ার অনেক ধরনের চিকিৎসা রয়েছে।তারমধ্যে অন্যতম তিনটি হল,
১। ডাক্তারি
২। কবিরাজী
৩। ঘরোয়া
১। ডাক্তারি
সবচেয়ে ভালো ও নিরাপদ চিকিৎসা হলো ডাক্তারি চিকিৎসা।ডাক্তারি চিকিৎসায়, গলার যে কোন সমস্যার কারন নিখুত ভাবে নির্নয় করে চিকিৎসা করা হয়।এতে খরচ একটু বেশি।যদি কারো গলায় সমস্যা বা গলাচেপে আসে তবে অতি দ্রুত ভালো ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।
২। কবিরাজী
এখনও আমাদের দেশে হাজারো নামকরা কবিরাজের দেখা মেলে।তারা অনেক ভালো চিকিৎসাও দিয়ে থাকে।আপনার আশেপাশে যদি এরকম কবিরাজ থাকে তবে তাদের দ্বারা চিকিৎসা করাতে পারেন।বিষেষ করে গলাচেপে আসা রোগীদের অনেক ভালো চিকিৎসা করতে পারে কবিরাজরা।তবে কবিরাজী চিকিৎসা ডাক্তারি চিকিৎসার চেয়ে ঝুকিপুর্ন।কারন:ডাক্তারি ঔষধ যেমন মানুষের সরীরের উপযুক্ত করে বৈজ্ঞানিক ভাবে তৈরি করা হয়।কিন্তু কবিরাজী ঔষধ সরাসরী গাছ গাছরা দিয়ে তৈরি।এতে বিভিন্ন ক্ষতিকারক পদার্থ রয়ে যায়।যা ডাক্তারি ঔষধে অপসারন করা হয়।
৩। ঘরোয়া ঔষধ
গলাচেপে আসলে প্রাথমিক ভাবে রোগিকে ঘরে তৈরি একটি ঔষধ খায়াতে পারেন।ঔষধটি বিখ্যাত কবিরাজদের দ্বারা তৈরি হয়ে থাকে।তবে চাইলে আপনিই তৈরি করতে পারেন।যেহেতু কবিরাজী ঔষধ তাই এর সাইডিফেক্ট থাকতেও পারে।তবে এই ঔষধের কার্যকারীতা আমার নিজের চখে দেখা।একজন মানুষের গলা চেপে আসলে,তাকে ঔষধটি খাওয়ানো হয়েছিল।খাওয়ানোর কিছুক্ষনের মধ্যেই রোগী সুস্থ হয়েছিল।যা আমার দেখা।ঔষধটি যে কোন সুস্থ বা অসুস্থ মানুষ খেতে পারে, কোন সমস্যা হয় না।এবং আমার দেখা কয়েক জন ঔষধটি খেয়ে সুস্থ হয়েছে।তাদের মাঝে কোন সাইডিফেক্ট দেখা যায়নি।এবং কোন সমস্যাও হয়নি।রোগীকে ঔষধ খাওয়ানোর সাথে সাথে রোগটি কমে যেতে সুরু করে, এবং ১০ মিনিটের মধ্যেই রোগী পুরোপুরী সুস্থ হয়ে যায়।যা দেখে আমি সত্যিই অবাক হয়েছিলাম।
যেহেতু গলার সমস্যার একটি কবিরাজী ও গাছান্ত ঔষধ তাই একটু সাবধান হওয়া টা জরুরি।কেননা গলায় বড় ধরনের সমস্যা হলে রোগী মারা পর্যন্ত যেতে পারে।আপনি এলাকার জ্ঞ্যানী ও মুরব্বিদের সাথে পরামর্শ করে ঔষধটি রোগীকে খাওয়াতে পারেন।তবে আমি কবিরাজদের সাথে কথা বলে এটা জানতে পেরেছি যে রোগীর যেরকম সমস্যাই হোক না কেন, এই ঔষধে রোগীর কোন ক্ষতি হবার আসঙ্কা নেই।গলাচেপে আসা বা গলাফাস যেহেতু খুবই মারাত্বক একটি রোগ।এতে রোগী কিছুক্ষনের মধ্যেই স্বাস বন্ধ হয়ে মারা যেতে পারে।অনেক সময় ডাক্তারের কাছে নেওয়ার আগেই রোগটি মারাত্বক আকার ধারন করে।কখনো আবার রোগী মারাও যায়।তাই প্রাথমিক চিকিৎসা সরুপ ঔষধটি খাওয়াতে পারেন।
ঘরোয়া ঔষধ তৈরির নিয়ম
প্রয়োজনীয় উপকরন
১।শোকনো মরিচ বা লঙ্কা ১৫টি
২। মসুর কালাই ১৫ টি
৩। আদা সামান্য পরিমান
৪। গোলমরিচ ১৫ টি
৫। কাঠাল গাছের নরম ডগা ১৫টি
৬। থানকুনি গাছ পাতাসহ
কাজের ধারা
১। প্রথমে ১৫টি শোকনো মরিচ বা লঙ্কার চিকন আগা সামান্য পরিমান কেটে আগার কাটা অংশ টুকু নিতে হবে।
২। এরপর ১৫ টি মসুর কালাই গুনে নিতে হবে।
৩। তারপর সামান্য পরিমান আদা নিতে হবে।
৪। গোলমরিচ ১৫টি গুনে নিতে হবে।গোলমরিচ হলো রান্নার জিরা মসলার সাথে একধরনের দানা জাতীয় গোল মসলা।
৫। কাঠাল গাছের নরম ডগা ১৫টি তুলে নিয়ে।ডগার একদম উপরের কচি নরম ডগা একদম ছোট করে ছিরে নিতে হবে।
৬। এক মুষ্টি পরিমান থানকুনি গাছ সিকর বাদে,কান্ড ও পাতাসহ নিতে হবে।থানকুনি গাছ অঞ্চলভেদে টেয়া, মানকি, তিতুরা, থানকুনি, আদামনি, ঢোলামানি, থুলকুড়ি, মানামানি , ধূলাবেগুন, আদাগুনগুনি নামে পরিচিত।
নিচে থানকুনি গাছের ছবি
![]() |
| থানকুনি গাছ |
৭। এবার সবকিছু একত্র করে সিল পাটায় বেটে রস তৈরি করে রোগীকে খাওয়াতে হবে।
ঔষধটি কিভাবে কাজ করে
গলাচেপে আসার মুলকারন সাধারনত হল, মুখের লালা গ্রন্থিতে সমস্যা হওয়া।যার ফলে পর্যাপ্ত লালা রস মুখে নির্গত হয় না।যার ফলে গলা সুকিয়ে ধীরে ধীরে চেপে আসে।আর তখন এই ঝাল গাছান্ত ঔষধ খাওয়ার ফলে মুখের লালা গ্রন্থিতে লালার পরিমান বৃদ্ধি পায় ও বেশি করে নির্গত হয়।যার ফলে গলার চাপ সাথে সাথেই কমে যায়।


