স্ট্রোক ( Stroke )
![]() |
| Stroke |
মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটার কারণে স্নায়ুতন্ত্রের কাজে ব্যাঘাত ঘটলে তাকে স্ট্রোক বলে । স্ট্রোক হয় মস্তিষ্কে , হৃৎপিণ্ডে নয় ; যদিও এ ব্যাপারে অনেকের ভুল ধারণা রয়েছে । মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ বা রক্তনালির ভিতরে রক্ত জমাট বেঁধে রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়া— এই দুইভাবে স্ট্রোক হতে পারে । এর মধ্যে রক্তক্ষরণজনিত স্ট্রোক বেশি মারাত্মক । সাধারণত উচ্চ রক্তচাপের কারণে মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণ হতে পারে ।
রোগের লক্ষণ :
এই রোগের লক্ষণ হঠাৎ করেই প্রকাশ পায় । লক্ষণগুলো হলো : বমি হয় , প্রচণ্ড মাথাব্যথা হয় , কয়েক মিনিটের মধ্যে রোগী সংজ্ঞা হারায় , ঘাড় শক্ত হয়ে যেতে পারে , মাংসপেশি শিথিল হয়ে যায় , শ্বসন এবং নাড়ির স্পন্দন কমে যায় , মুখমণ্ডল লাল বর্ণ ধারণ করে । অনেক সময় অবশ্য খুব মারাত্মক উপসর্গ ছাড়াই শুধু মুখ বেঁকে যাওয়া বা অল্প সময়ের জন্য অজ্ঞান হয়ে গিয়ে আবার জ্ঞান ফিরে আসা— স্ট্রোকের এ জাতীয় লক্ষণ দেখা যায় । স্ট্রোক কতটা মারাত্মক তা বলতে হলে অন্তত কয়েক দিন রোগীকে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন , সে সময়ে তাঁকে হাসপাতালে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে রাখতে হয় । তাই , স্ট্রোক হলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব রোগীকে হাসপাতালে স্থানান্তরিত করতে হবে এবং যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে । উপযুক্ত চিকিৎসা করা হলে রোগী অনেক সময় বেঁচে যায় , তবে যদি রক্তক্ষরণজনিত স্ট্রোক হয় , তাহলে বাঁচার নিশ্চয়তা দেওয়া সম্ভব নয় । রোগী যদি বেঁচে যায় , তাহলে কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিন পর সে তার সংজ্ঞা ফিরে পায় । তবে রোগী কিছুটা ছটফট করে এবং আস্তে আস্তে অসাড় হয়ে যাওয়া অঙ্গে দৃঢ়তা ফিরে আসে । জ্ঞান ফিরে এলেও বাক নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্ৰ যদি ক্ষতিগ্রস্ত হয় , তবে রোগীর কথা জড়িয়ে যায় । পক্ষাঘাত বা অবশ হয়ে যাওয়া অঙ্গ ( যেমন : হাত ) সংলগ্ন পেশি নড়াচড়ায় শক্তি ক্রমশ ফিরে আসে কিন্তু হাত দিয়ে সূক্ষ্ম কাজ করার ক্ষমতা সাধারণত পুরোপুরিভাবে ফিরে আসে না । চিকিৎসার প্রাথমিক পর্যায়ে আরোগ্য লাভ দ্রুত হতে থাকে কিন্তু দুমাস পরে উন্নতি ক্রমশ কমে আসে । হঠাৎ আক্রমণে যে স্নায়ু সাময়িকভাবে কার্যক্ষমতা হারায় , সেগুলো দ্রুত আরোগ্য লাভ করে এবং কার্যক্ষমতা ফিরে পায় । আর যেসব স্নায়ু সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় , সেগুলোর কর্মক্ষমতা চিরতরে বিনষ্ট হয়ে যায় ।
রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা :
মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ বা রক্ত জমাট বেঁধেছে কি না তা নির্ণয় করে এই রোগ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায় । এই রোগটির সঠিক কারণ অনেক সময় নির্ণয় করা সম্ভব হয় না । মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণ বন্ধ করা সম্ভব নয় , তবে মস্তিষ্কে জমে থাকা রক্ত অনেক সময় অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে বের করার প্রয়োজন হতে পারে । রোগীর উচ্চ রক্তচাপ থাকলে তা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করা , রোগীর প্রয়োজন অনুযায়ী সম্ভব হলে অস্ত্রোপচার করা যেতে পারে । রোগীকে উপযুক্ত শুশ্রুষা , মলমূত্র ত্যাগের সুব্যবস্থা করা , পরিষ্কার - পরিচ্ছন্ন রাখা , পথ্যের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা দরকার । প্রয়োজনবোধে রোগীকে নলের সাহায্যে খাবার খাওয়ানোর ব্যবস্থা করা যেতে পারে । ফিজিক্যাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ এবং ফিজিওথেরাপিস্টের পরামর্শ মোতাবেক অবশ বা পক্ষাঘাতগ্রস্ত অঙ্গ নির্দিষ্ট নিয়মে নড়াচড়া করানো দরকার , এতে ক্ষতিগ্রস্ত অঙ্গের অস্থিসন্ধি শক্ত হয়ে যাওয়া রোধ করা সম্ভব হয় । রোগীর জ্ঞান ফিরে এলে নিজ প্রচেষ্টায় নড়াচড়া করতে উৎসাহিত করা উচিত ।
প্রতিরোধের উপায় :
ধূমপান পরিহার করা , যারা উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন , তাদের উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা , যারা ডায়াবেটিসে ভুগছেন তাদের নিয়মিত ঔষধ সেবন করা , দুশ্চিন্তামুক্ত , সুন্দর এবং স্বাভাবিক জীবন যাপন করা ।

