বহুমূত্র বা ডায়াবেটিস ( Diabetes )
![]() |
| Diabetes |
অগ্ন্যাশয়ের ভিতর আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যানস নামক এক ধরনের গ্রন্থি আছে , এই গ্রন্থি থেকে । ইনসুলিন ( Insulin ) নিঃসৃত হয় । ইনসুলিন হলো এক ধরনের হরমোন , যা দেহের শর্করা পরিপাক নিয়ন্ত্রণ করে । অগ্ন্যাশয়ে যদি প্রয়োজনমতো ইনসুলিন তৈরি না হয় তবে রক্তে শর্করার পরিমাণ স্থায়ীভাবে বেড়ে যায় , প্রস্রাবের সাথে গ্লুকোজ নির্গত হয় । এ অবস্থাকে বহুমূত্র বা ডায়াবেটিস মেলিটাস ( সংক্ষেপে : ডায়াবেটিস ) বলে । ডায়াবেটিস প্রধানত দুই ধরনের , টাইপ -1 এবং টাইপ -2 । টাইপ -1 এ আক্রান্ত রোগীর দেহে একেবারেই ইনসুলিন তৈরি হয় না । তাই নিয়মিতভাবে ইনজেকশনের মাধ্যমে ইনসুলিন নিতে হয় । অন্যদিকে টাইপ -2 রোগীর দেহে আংশিকভাবে ইনসুলিন তৈরি হয় । এক্ষেত্রে ঔষধ , অগ্ন্যাশয় কোষকে শরীরের জন্য পরিমিত ইনসুলিন তৈরিতে সাহায্য করে । তবে টাইপ -২ ডায়াবেটিসেও কোনো না কোনো পর্যায়ে ইনসুলিনের স্থায়ী ঘাটতি হয়ে যেতে পারে কিংবা বিভিন্ন অসুখ বা চিকিৎসাপদ্ধতির সাধারণত বংশগতি এবং পরিবেশের প্রভাবে হয়ে থাকে । এটি সংক্রামক বা ছোঁয়াচে রোগ নয় । অংশ হিসেবে সেই সব ঔষধ বন্ধ রাখতে হতে পারে , তখন ইনসুলিন ছাড়া উপায় থাকে না ।
এ রোগটি রক্ত ও প্রস্রাবে গ্লুকোজের মাত্রা পরিমাণের চেয়ে বেড়ে গেলে এই রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায় । লক্ষণগুলো হলো ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া , অধিক পিপাসা লাগা , ক্ষুধা বেড়ে যাওয়া , পর্যাপ্ত খাবার খাওয়া সত্ত্বেও দেহের ওজন কমতে থাকা , দুর্বল বোধ করা , চোখে কম দেখা , চামড়া খসখসে ও রুক্ষ হয়ে যাওয়া , ক্ষতস্থান সহজে না শুকানো ইত্যাদি ।
পুর্বে ধারণা করা হতো কেবল বয়স্কদের এ রোগটি হয় । এ ধারণাটি সঠিক নয় । ছোট - বড় সব বয়সে এ রোগ হতে পারে । তবে যারা কায়িক পরিশ্রম করেন না , দিনের বেশির ভাগ সময় বসে কাজ করেন অথবা অলস জীবন যাপন করেন , তাদের ডায়াবেটিস হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে । তাছাড়া স্থূলকায় ব্যক্তিদের এ রোগ হওয়ার আশঙ্কা বেশি । যেহেতু এ রোগ বংশগত , তাই কোনো ব্যক্তির বাবা , মা , দাদা , দাদির এ রোগ থাকলে তার এ রোগ হওয়ার আশঙ্কা খুবই বেশি । বংশগতভাবে অনেক শিশুর দেহে ইনসুলিন উৎপাদন কম হয় , ফলে শিশুটি ইনসুলিন ঘাটতিজনিত অসুস্থতায় ভুগতে থাকে ।
ডায়াবেটিস রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা :
রক্ত ও প্রস্রাব পরীক্ষা করে গ্লুকোজের মাত্রা নির্ণয়ের মাধ্যমে এ রোগ নির্ণয় করা যায় । চিকিৎসা করে ডায়াবেটিস রোগ একেবারে নিরাময় করা যায় না , কিন্তু এই রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় । ডাক্তারদের মতে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য তিনটি ' D ' মেনে চলা অত্যাবশ্যক । এগুলো হলো : Discipline , Diet ও Dose
( i ) শৃঙ্খলা ( Discipline ) :
একজন ডায়াবেটিস আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য তার সুশৃঙ্খল জীবনব্যবস্থা মহৌষধস্বরূপ । এছাড়া নিয়মিত এবং ডাক্তারের পরামর্শমতো পরিমিত খাদ্য গ্রহণ করা , নিয়মিত ব্যায়াম করা , রোগীর দেহের পরিষ্কার - পরিচ্ছন্নতা ও বিশেষভাবে পায়ের যত্ন নেওয়া , নিয়মিত প্রস্রাব পরীক্ষা করা এবং দৈহিক কোনো জটিলতা দেখা দিলে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া ।
( ii ) খাদ্য নিয়ন্ত্রণ ( Diet ) :
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের প্রধান উপায় হলো খাদ্য নিয়ন্ত্রণ করা , মিষ্টিজাতীয় খাবার পরিহার করা ও ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত এবং সময়মতো খাদ্য গ্রহণ করা । ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী খাবারের মেনু অনুসরণ করলে সুফল পাওয়া যায় । তবে যার ডায়াবেটিস নেই , তার মিষ্টি খাওয়া বা না খাওয়ার সাথে ডায়াবেটিসের সম্পর্ক নেই ।
( iii ) ঔষধ সেবন ( Dose ) :
ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোনো ঔষধ সেবন করা উচিত নয় । ডাক্তার রোগীর শারীরিক অবস্থা বুঝে ঔষধ খাওয়া বা ইনসুলিন নেওয়ার পরামর্শ দেন । সেই পরামর্শ অনুযায়ী রোগীকে নিয়মিত ঔষধ সেবন করতে হবে । ঠিকমতো চিকিৎসা না করা হলে রোগীর রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে কমে বা বেড়ে যায় । উভয় ক্ষেত্রেই রোগী বেহুঁশ হয়ে পড়তে পারে । এমনকি মৃত্যুও হতে পারে । যদি ডায়াবেটিস রোগী হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে যান , তখন তাকে বসিয়ে গ্লুকোজ বা চিনির পানি খাইয়ে দিলে অনেক সময় খারাপ পরিণতি এড়ানো যেতে পারে ।

